Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 6:41 pm

ইয়ং অ্যান ইন্টারন্যাশনালের কাছে ছয় কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি দাবি

প্রকাশ: May 3, 2021 সময়- 11:35 pm

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্যের বন্ডিং মেয়াদ ২৪ মাস। এই সময়ের মধ্যে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে আমদানিকৃত পণ্য রপ্তানি করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম সিইপিজেডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইয়ং অ্যান ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১০ বছরেও বন্ড সহায়তায় আমদানিকৃত পণ্য রপ্তানি করেনি। এর বিপরীতে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ছয় কোটি দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা সিইপিজেডের ৭/এ সেক্টরের ৫-৮নং প্লটে অবস্থিত মেসার্স ইয়ং অ্যান ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড সুবিধার আওতায় চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটে নিবন্ধিত হয়। মূলত তার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের আওতায় কম শুল্কে পণ্য আমদানি শুরু করে। যদিও লাইসেন্সিং রুলসের আওতায় ওইসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে ২৪ মাসের মধ্যে পুনঃরপ্তানি করতে হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একাধিক চালান আমদানি করে তা পুনঃরপ্তানি করেনি। 

চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্র্শনে যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির গুদামে রক্ষিত অতিরিক্ত মজুত পণ্যের ব্যাপকতা ও বন্ডিং মেয়াদ-উত্তীর্ণ পণ্যের (ফেব্রিক্স) আলামত পাওয়া যায়। তাই ২০১৯ সালের বার্ষিক নিরীক্ষা সুষ্ঠভাবে করার জন্য চলতি বছরের ২৩ মার্চ চার সদস্যের একটি দল প্রতিষ্ঠারটির গুদাম ইনভেন্ট্রি করে। এসময় তাদের গুদামে সাত হাজার ৩৩২ রোলে এক লাখ ৮২ হাজার ৮৪৮ কেজি ফেব্রিক্স পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই ছিল মেয়াদ-উত্তীর্ণ। ফলে এ সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে ওইসব মেয়াদ-উত্তীর্ণ পণ্যে বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস ও অন্য দলিলাদি চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। তবে পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব প্যাডে সাল অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত পণ্যের বিবরণ প্রদান করে। তাতে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বেশ কয়টি চালানে আমদানিকৃত পণ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।

এসব চালানের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো অর্থাৎ প্রথম মেয়াদ-উত্তীর্ণ চালানটি ২০১০ সালের ২৩ মে আমদানি করে ওই প্রতিষ্ঠান। এই চালানে ছয়

লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৫ টাকার পণ্য রয়েছে, যার বিপরীতে শুল্ক আসে, অর্থাৎ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৩৬১ টাকা। তার পরের মেয়াদ-উত্তীর্ণ চালানটি আমদানি করে ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই চালানে আট লাখ ৪০ হাজার ৫৫৫ টাকার বন্ডেড পণ্য আমদানি করা হয়। আর এই চালানের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ছয় লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টাকা। এরপর ২০১৫ সালে আমদানি করা চার লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ টাকার চালানের বিপরীতে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে তিন লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে তিনটি চালানের পণ্য মেয়াদ-উত্তীর্ণ হয়। এগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৫ মে আমদানি করা ৯৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫১ টাকার ফেব্রিক্সের বিপরীতে রাজস্ব ক্ষতি হয় ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ৮৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৯ টাকার ফেব্রিক্স আমদানির বিপরীতে রাজস্ব ক্ষতি হয় ৭২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৯ টাকা এবং ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল আমদানি করা পাঁচ কোটি ৩৩ লাখ ১৮ হাজার ২৪৬ টাকার পণ্যের বিপরীতে শুল্ক আসে চার কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ২০২ টাকা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনার একেএম মাহবুবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদে বন্ড সুবিদায় আমদানিকৃত সাত কোটি ৩৭ লাখ ৯৬ হাজার ১৮১ টাকার পণ্যের বিপরীতে ছয় কোটি দুই লাখ ৪৭ হাজার ২০২ টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে, যা কাস্টমস আইন মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে। তাই সাত কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় কোটি দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের দাবিনামা জারি করা হয়েছে। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পেলে সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচারের নিমিত্তে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।