মত-বিশ্লেষণ

ইরানের সঙ্গে বৈরিতার মূলে পরমাণু কর্মসূচি নয়, বরং সৌদি আরবের জিঘাংসা

অ্যালিসন টি মিউস: ২০১৫ সাল। এ সময় ইরান ও তার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় পশ্চিমা শত্রু রাষ্ট্রের মধ্যে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। এ চুক্তিটি কোনো সাধারণ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়নি। বরং এই চুক্তিটিতে বিভিন্ন জাতিকে এক টেবিলে বসার জায়গা করে দেওয়া হয়। আর সেই আসরে ইরান তার বৈধ অধিকার ফিরে পেয়েছিল।
ইরান, একটি বৃহৎ দেশ। এর রয়েছে সাম্রাজ্যের ইতিহাস; রয়েছে সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। দেশটি হয়তো এই চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন মহলে অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে তার পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষাকে দমিয়ে নিতে পারত। তারা পারমাণবিক অস্ত্র না বানিয়ে নিজেদের ৮০ মিলিয়ন শক্তিশালী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনিয়োগে মন দিত।
ওবামা প্রশাসন এই বিশাল দায়িত্বের বোঝা তখন কাঁধে নিয়েছিল। চুক্তিটি ছিল ব্যাপক তাৎপর্যমণ্ডিত। এখানেই শেষ নই, ওবামা প্রশাসনের এই চুক্তিটি ছিল একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঝুঁকিপূর্ণ সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে নেওয়া কৌশলের একটি অংশ। যাহোক, এ উদ্যোগটি তখন হাসান রুহানির সরকারের পদক্ষেপে স্থিতি লাভ করেছিল।
এরপরের মাসগুলো এবং বছরগুলোয় পশ্চিমা সংস্থাগুলো সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং প্রায়ই তারা এ ইঙ্গিতই দিতে থাকে যে, আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ আবর্তিত হবে তেহরানকে ঘিরে। সবচেয়ে বড়-বৃহৎ তেল কোম্পানি, গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারলাইনসগুলো তেহরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতেও যেন মুখিয়ে ছিল। ফ্রান্সের তেল আমদানিকারকদের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে চার দশমিক আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি লেনদেন চুক্তি সই করেন। এই তেল আমদানির উদ্দেশ্য ছিল সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড গড়ে তোলা। এটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তেল কারবারি চুক্তি।
সামগ্রিক এই চুক্তিতে বলা হয়, এই বড় ও গুরুত্বাবহ চুক্তিটি ইউরোপ ও ইরানের মধ্যেকার সম্পর্ক গড়নে ভূমিকা রাখবে। ২০২১ সালের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ বাজার সরবরাহ শুরু হয়ে যাচ্ছে বলে একটি শোরগোল তখন শুরু হয়েছিল।
অবশ্য এই কারবারের অনুমোদন তখন ইতোমধ্যে আটলান্টিক অতিক্রম করছিল।
প্রাকৃতিক জোটবদ্ধতা একজন ঝানু সমঝোতাকারী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছে, ইরান প্রাকৃতিকভাবেই ইউরোপের সঙ্গে একটি জোটে আবদ্ধ। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেশটির বৈচিত্র্য রয়েছে। রয়েছে শিক্ষিত ও চৌকস মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগরিক এবং একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রটির সঙ্গে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র সেই দিনগুলোয় তাদের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিদেশনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
এসব সম্পর্ক অবশ্যগুলো অবশ্য ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সঙ্গে কিছুটা বিচ্যুতি সৃষ্টি করেছিল। সেই বিপ্লব শাহ রেজা পাহলভি উৎখাত হয় এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খমেনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
১৯৫৩ সালের কথায় আসা যাক, দখন ওয়াশিংটন ইরানি গণতন্ত্রের হাঁটুর নিচে ঘা বসিয়ে দেয়। এ কাজে তারা ইরানের ধর্মনিরপেক্ষ ও নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ মুসাদ্দেগকে তাদের সিআইএ আয়োজিত অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে উৎখাত করেছিল। তার বড় অপরাধটি ছিল ইরানের তেল কারখানাকে জাতীয়করণ করা এবং ব্রিটিশ ও আমেরিকার বশ্যতা অস্বীকার করা।
কিন্তু পেন্ডুলামের দোলন পশ্চিমাভিমুখে চিরস্থায়ী হলো না। আবারও নতুন করে যখনই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে পেন্ডুলামে দোলা লাগল, তখনই ইসলামি বিপ্লব নেতৃত্বে চলে এলো। এরপর ইরানের সম্পদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য পেতে আরও তিনটি দশক কেটে গেল। অবশেষে বারাক ওবামা এসে ইরানি সম্পদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য সৃষ্টি করল কিছুটা।
২০০৭ সালে ওবামা যখন প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছিলেন, তখন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলে, আমি তেহরানের নেতার সঙ্গে যে কোনো সময় বসতে প্রস্তুত রয়েছি। সে বলে, ‘আমি মনে করি, আমরা যে তাদের সরকার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে নাছোড়বান্দা নইÑইঙ্গিতটা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাদের আচরণে কিছু পরিবর্তন আমরা আশা করি। তবে তাদের আচরণের পরিবর্তন আনতে মুলা ও লাঠি উভয়ের ব্যবহারই থাকবে।’
মুসলিম বিশ্বের সামনে বক্তৃতা দানে ২০০৯ সালে কায়রো থেকে বারাক ওবামা স্বীকার করেছিলেন অর্ধশত বছর আগে ইরানের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছিল এবং কোনো শর্ত ছাড়াই তাদের আলোচনায় বসারও আহ্বান জানায়।
দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে ওবামা তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিল। এই অঞ্চলের ভবিষ্যতকে ও এর সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ককে পুনরাই শক্তিশালী করার কৌশলেরই অংশ ছিল এটি। সেক্রেটারি অব স্টেট জন কেরি সে সময় ইরানের সর্বোচ্চ কূটনীতিক, জাভেদ জারিফের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন সমঝোতায় আসার জন্য। এ সময় জন কেরি তার প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান রাখতে সামান্যতম ত্রুটি রাখেনি।
সৌদি আরব ও ইরান একে অপরের সঙ্গে অনেক বড় শত্রুতায় নিমজ্জিত। কিন্তু এই দুই প্রতিবেশ সম্পর্কে ২০১৫ সালের শুরুতে এক চুক্তি স্বাক্ষরে ওবামা দি আটলান্টিকের জেফ্রি গোলবার্গকে বলেন, তাদের শেখা উচিত কীভাবে নিজেদের মধ্যে প্রতিবেশী সম্পর্ক ভাগাভাগি করে নিতে হয়।
২০১৬ সালে বাদশাহ সালমানের সঙ্গে ওবামার শেষ বৈঠকে ওবামা সৌদি শাসকদের ইরানি কূটনীতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ব্যাপকভাবে উৎসাহ দিয়েছিলেন। বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের বদলি যুদ্ধ কিংবা ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে উৎসাহ দেননি। কিন্তু বাদশাহর ছেলে ক্রাউন প্রিন্স যিনি এমবিএস (মুহাম্মাদ বিন সালমান) নামে পরিচিত, তিনি বৈঠক চলাকালে ওবামার একজন প্রধান উপদেষ্টার ওপর এই কারণে প্রচণ্ড চটে যায়।
ওবামার নিন্দুকেরা বলে থাকে, ইরানের সঙ্গে এসব কারবারের ভেতর দিয়েই মূলত ওপেকের প্রধান রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে কয়েক বছরের পুরোনো জোটকে মূল্য দিতে হলো। এমনকি ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও বলা হলো ইরানের সঙ্গে এসব চুক্তি বা কারবারের ভেতর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গ ছেড়ে দিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেই সৌদি আরব একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের পথ নিজেদের জন্য সৃষ্টি করে নিয়েছিল। তারা খুঁজে নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।
সৌদির প্রতি টোটাল
২০১৬ সালের প্রেসিডেনশিয়াল প্রচারাভিযানের উত্তাপ চলাকালে সম্ভবত কোনো বিদেশনীতিই ওবামার বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে প্রতিরক্ষা দিতে পারেনি, কেবল একটি ইস্যু ব্যতীত: সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি যাকে ট্রাম্প ‘ব্যাড ডিল’ বলে অভিহিত করে।
যখন ফুলেফেঁপে ওঠা রিয়েল-এস্টেট ডেভেলপাররা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অনধিকার চর্চার বিরুদ্ধে শোরগোল শুরু করলেন, তখন রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ইরাক ও ইরানে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের আক্রমণ প্রসঙ্গ নিয়ে অর্থডক্সিরা যে ভাঙন সৃষ্টি করল, তা ভিন্ন গল্প হয়ে পড়ে রইল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমানের মধ্যকার রিয়াদে অনুষ্ঠিত মার্চ, ২০১৭ তারিখের বৈঠকটি বাঁক সন্ধিক্ষণ বলেই অভিহিত করা হলো। এই বৈঠকে উভয় পক্ষের নেতারা চূড়ান্তভাবে একটি জায়গায় একাট্টা হতে পিছিয়ে দাঁড়াল যে, তারা উভয়ে মিলে ইরানের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উচ্চাকাক্সক্ষার কণ্ঠরোধ করবে। এ উদ্দেশ্যে তারা বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রাকৃতিক-গ্যাসে বিনিয়োগের ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন করে। সৌদি নেতারা ইরান ও তাদের বিপুল পরিমাণের মজুতকে দমিয়ে দেওয়ার ফন্দি খুঁজতে থাকে।
অন্যদিকে, তরুণ প্রিন্স সৌদি আরামকোকে কিছুটা বেসরকারীকরণের জন্য এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে। প্রায় চার দশকের বেশি সময় আগে তার পূর্বসূরিরা এটাকে স্ট্যান্ডার্ড ওয়েল নামে কিনেছিল। কার্যত তিনি নিজেকে একজন ইসরাইলের বন্ধু হিসেবেই উপস্থাপন করতে থাকে; যে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জবরদোস্ত জলুমবাজি চালিয়ে আসছে। বস্তুত প্রিন্স সেই সূত্রে ফিলিস্তিনিদের জুলুমে অংশ নিল। জারিড কুশনারের নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসনকে তারা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হলো যে, এই তরুণ প্রিন্সের পেছনে বিনিয়োগ করলে আগামী শতকে তার প্রতিদান পাওয়া যাবে।
যাহোক, এই সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ইরানের দক্ষিণাঞ্চলকে ধসিয়ে দিতে উদ্যত হলো। ট্রাম্প সেখানে একটি অর্থনৈতিক অভ্যুত্থান মঞ্চস্থ করল।
এরপর এলো ২০১৮ সালের মে মাস। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিল। এক বছর পর, আগের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা আবারও ইরানোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক নিষেধাজ্ঞাটি ছিল: ইরানের পেট্রোলিয়াম খাতকে কালো তালিকায় আবদ্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার কঠোরতা প্রশমনের নিশ্চয়তা আর ইরানকে দেওয়া গেল না। ২০১৮ সালের আগস্টে টোটাল ইরান থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিল। তারা বহু বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত লেনদেন চুক্তি উপেক্ষা করে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ডলারের তেলের লেনদেন সম্পন্ন করে।
তার দুই মাস পর, টোটাল সৌদি আরবের দিকে বাঁক ফেরাল। তারা সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্ট আরামকো প্রতিষ্ঠাকল্পে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঢালল। এই সপ্তাহের মধ্যেই, সৌদি কলামিস্ট জামাল খাসোগি যে ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে খুন হলো তার খবর বেরিয়ে এলো পত্রপত্রিকায়।
এই হত্যাকাণ্ডের শোরগোল যখন সারা দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল, তখন টোটালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্যাট্রিক পৌইয়ানে রিয়াদের উদ্দেশে বিমানে ছুটে এসেছিলেন সৌদি প্রিন্সের বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’র মধ্যমণি হতে। প্যাট্রিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, ‘টোটাল কখনোই নিষেধাজ্ঞা বা একঘোরেকরণের পক্ষে ছিলেন না।’ অনেকগুলো বিশ্বমানের কোম্পানির মধ্যে এই টোটাল এমন একটি কোম্পানি, যার প্রথম পছন্দই হলো ইরান, তাই প্যাট্রিকের এই মন্তব্যটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং তার মধ্যে ছিল এক ভারি ব্যঞ্জনা।
সিংগাপুর রাজরতœম স্কুল অ্যান্ড মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের একজন জ্যেষ্ঠ ফেলো জেমস ডর্সি যুক্তি আরোপ করেন, সৌদি আরবের জন্য সবচেয়ে খারাপ দৃশ্যপট তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ইরানি সরকার পশ্চিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং নিষেধাজ্ঞার শৃঙ্খল মুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও ইরানের জন্য যদি একটি সমতল খেলার মাঠও তৈরি করা হয়, তবে সেখানে ইরানই জয় লাভ করবে।
অবশেষে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এসব কারবার বা চুক্তি সম্পর্ক ভেঙে তছনছ করে দিল।

মধ্যপ্রাচ্য সম্পাদক ও প্রতিনিধি, এশিয়া টাইমস

এশিয়া টাইমস থেকে
ভাষান্তর: মিজানুর রহমান শেলী

সর্বশেষ..