বিশ্ব সংবাদ

ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত দমনে কঠোর সরকার

ইউক্রেনের উড়োজাহাজ ভূপাতিত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউক্রেনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ইরানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল সোমবারও বিক্ষোভ জোরদার হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদেও ওপর টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। এ ঘটনায় সরকারের রক্ষণশীল অংশের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর: নিউইয়র্ক টাইমস।

দুর্ঘটনার পর প্রথম তিন দিন ইরান উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার কথা অস্বীকার করে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদেরই দায়ী করে আসছিল। কর্তৃপক্ষ দাবি করে, কারিগরি ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তারা অস্বীকৃতি জানায়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থল থেকে তারা বেশ কিছু প্রমাণ সরিয়ে ফেলেছে। দেশ ও বিদেশের চাপের মুখে অবশেষে গত শনিবার ইরান স্বীকার করে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ১৭৬ যাত্রী নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ইরানি ও ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক।

এ স্বীকারোক্তির ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি সমালোচনার মুখে না পড়লেও ইরানের জনগণ বিক্ষোভে নেমে পড়েছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার পর নীরব থাকলেও এবার তারা সরব। এবারের বিক্ষোভের একটি অংশ সাধারণভাবে সরকার সমর্থক ও রক্ষণশীল। আর বিরোধীরা তো রয়েছেন। কট্টরপন্থি দৈনিক পত্রিকার শিরোনামে বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে, যিনি প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়েছেন।

বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর তাসনিম বার্তা সংস্থার এডিটর ইন চিফ কিয়ান আব্দোলাহী বলেছেন, যা ঘটেছে তা নিয়ে মিথ্যাচার বিমান ভূপাতিত করার মতোই বিপর্যয়কর। টুইটারে তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছেন, তারাও দোষী। জনগণের সামনে আমরা সবাই লজ্জিত। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের চলমান বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকেই শক্তিশালী করবে। এরই মধ্যে তারা বিক্ষোভের জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করা শুরু করেছে। ইরানের কট্টরপন্থিরা দেশের বিক্ষোভের নেপথ্যে সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..