দিনের খবর সারা বাংলা

ইরি আবাদ হয়নি ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলায় রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ইরি-বোরো বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহে। আগের মৌসুমে ধানের বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা ইরি-বোরো আবাদে বাড়তি উৎসাহ নিয়ে চাষ শুরু করেছেন। তবে জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে বিপুল পরিমাণ জমিতে এবার ধান চাষ করতে পারেননি কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা অফিসের তথ্যমতে, এবার জেলার সাতটি উপজেলার ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১৪ হাজার হেক্টর, তালায় ২০ হাজার হেক্টর, দেবহাটায় ছয় হাজার হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর, আশাশুনিতে আট হাজার হেক্টর ও শ্যামনগরে দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে।

এদিকে সাতক্ষীরায় বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৫১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, জেলায় তিন লাখ ৮১ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উপযোগী। এর মধ্যে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ও জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে বোরো উৎপাদন নিয়ে হতাশায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। জলাবদ্ধার কারণে শুধু সাতক্ষীরা জেলার ৩৬ হাজার ৮০৪ হেক্টর নিচু জমিতে বোরোর আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, জেলায় মোট ফসলি জমির মধ্যে এক লাখ ৭৭ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমিতে সবসময় আবাদ করা যায়। এছাড়া স্থায়ী পতিত জমি রয়েছে ৪৫ হাজার ১১০ হেক্টর। এর বাইরে চাষযোগ্য জমির মধ্যে মাঝারি ও নিচু জমির পরিমাণ ৩৬ হাজার ৮০৪ হেক্টর। এসব জমির বেশিরভাগ অংশ এখনও পানির নিচে রয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সর্ববৃহৎ বিল দাঁতভাঙ্গা, মালিনি ও পদ্মবিলসহ ১৩টি বিল এখনও ফসলশূন্য। এসব বিল ও গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ সীমান্তের ইছামতি নদীর শাখরা সøুইস গেট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার বেতনা ও কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় তালা উপজেলার সরুলিয়া, নগরঘাটা, কুমিরা, খলিসখালি ও সদরের লাবসা, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে এখনও হাঁটুপরিমাণ পানি। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিলগুলো ডুবে থাকায় আমন মৌসুমে চাষাবাদ হয় না। এবার বোরো মৌসুমেও জমি চাষ করতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, নদীতে পানি আটকে থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করা হলেও শীতে চারা নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলে জমি তৈরি করতে না পারায় কৃষকরা হতাশায় দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরোর আবাদ হতে চলেছে। প্রতিক‚ল পরিবেশের মধ্যেও জেলার চাষিরা ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন। জলাবদ্ধতা না থাকলে বোরোর আবাদ আরও বৃদ্ধি পেত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান, কৃষিজমির পরিমাণ কমে আসায় কৃষক হাইব্রিড জাতের ধান চাষের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী। উফশী জাতের তুলনায় হাইব্রিড ধান চাষে ৩০-৪০ শতাংশ ফলন বেশি হয়। বোরো মৌসুমে চাষাবাদ-উপযোগী আগাম জাতগুলো হলো বিআর-১, বিআর-৬, ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-৪৫ এবং ব্রি ধান-৫৫। অল্পদিনে এগুলোর বেশি ফলন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..