সম্পাদকীয়

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে জেলেদের সুবিধা বাড়ান

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে বাংলাদেশে। তবে চলতি শতকের শুরুতে সে ধারায় ছেদ পড়ে। ইলিশের দেখা মিলছিল কালেভদ্রে। আশার কথা, আবারও ইলিশের সুদিন ফিরেছে। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে, দামও হাতের নাগালে। বিশেষত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় তার সরাসরি সুফল মিলছে। তবে জেলেদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নেতিবাচক ফলও মিলছে। ইলিশ উৎপাদনে সফলতা ধরে রাখতে জেলেদের সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

এরই মধ্যে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর ইলিশের জিআই সনদ দিয়েছে। তবে নানা সমস্যা ইলিশ উৎপাদন ব্যবস্থায় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিচ্ছে। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার: বরাদ্দ কম হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে ব্যাহত হচ্ছে অভিযান’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, প্রজনন মৌসুমে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইলিশ পাওয়ায় নিষিদ্ধ সময়েও জেলেরা মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছেন। বেড়েছে মৌসুমি জেলের সংখ্যাও। প্রজনন সময়ে জেলেদের জন্য খাদ্য ও অর্থ সহায়তার বরাদ্দ কম এবং জনবল সংকট থাকায় জেলেদের মাছ ধরা থেকে নিবৃত করা যাচ্ছে না। ইলিশ উৎপাদনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে যা আবশ্যক।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ না ধরলে জেলেসহ সবার লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারপরও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা হতাশাজনক। এতে তারা নিজেদের ক্ষতি করছে বৈকি। তবে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িতদের পর্যাপ্ত সহায়তা করা প্রয়োজন। কারণ নিষিদ্ধ সময়ে তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা না করলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। অবশ্য মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তাদের চালসহ কিছু সহায়তা দেওয়া হয়, যা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সুফল  পেতে তাদের এ সুবিধা বাড়াতে হবে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অভিযানের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫০ হাজার টাকা। পর্যাপ্ত জনবল নেই, ব্যাহত হচ্ছে প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বরাদ্দ ও জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ইলিশের প্রজনন সময় ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা ও ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়সীমা সঠিকতা নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, ইলিশ উৎপাদনে কোনো খরচ নেই, শুধু পরিবেশ রক্ষা ও নিয়ম মানলেই চলে। তাই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সর্বশেষ..