প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পর্যবেক্ষণ: নাসিক নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোট সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) নামে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপ। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ পর্যবেক্ষণ জানায়।

ইডব্লিউজির পরিচালক মো. আব্দুল আলীম জানান, ‘আমরা নির্বাচনে কোনো সহিংসতা দেখতে পাইনি। কাউকে জাল ভোট দিতে দেখিনি। আমাদের সামনে কোনো ভোটারকে বাধা দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমাদের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে।’ এ সময় ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও পেশাদারি মনোভাব নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইডব্লিউজির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৭৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩১টি কেন্দ্র বাছাই করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভেতরে পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভোটকেন্দ্র খোলা থেকে বন্ধ ঘোষণা পর্যন্ত বাইরের পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতিই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সব ভোটকেন্দ্রে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি ছিল। পোলিং এজেন্ট অথবা ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার কোনো নজির দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছে ইডব্লিউজি।

ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষণমতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সকাল ১০টা নাগাদ ২৪ শতাংশ, দুপুর ১টা নাগাদ ৪৫ শতাংশ ও বিকাল ৩টা নাগাদ ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোটগণনা শুরু হয়। ৯৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করে ভোটগণনা শুরু হয়। গণনাকেন্দ্রে অযাচিত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি কারপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী পৌনে এক লাখ ভোটের ব?্যবধানে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন। রিটার্নিং অফিসারের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নৌকা প্রতীক নিয়ে আইভী পেয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাখাওয়াত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।

অবশ্য নির্বাচনের রাতে পরাজিত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ‘ভোট গণনায় ত্রুটি’ হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে জয়ী করতে কারচুপি হয়ে থাকতে পারে’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।