মত-বিশ্লেষণ

ইসলামে নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা

মো.জিল্লুর রহমান: বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামে নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচিত বিষয়। এ বিষয়টি নিয়ে পাশ্চাত্য সমাজে খুবই ধাঁধা কাজ করছে এবং অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যার সূত্র ধরে ইসলামবিরোধীরা নানাভাবে নারীর ওপর কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে। আর এ বিষয়টির ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সে সম্পর্কে আমাদের সমাজের অনেকের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। পাশ্চাত্য সমাজ এবং ইসলামবিরোধীরা প্রচারণা চালাচ্ছে, ইসলাম নারীকে শেকল পরিয়ে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে রেখেছে, তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে জুলুমের বোঝা।

জেনে হোক আর না জেনে হোক, নারী-সম্পর্কিত হাজারো অভিযোগ ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এক্ষেত্রে কেবল ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, যা পুরুষের পাশাপাশি নারী জাতিকে তাদের ন্যায্য অধিকার, প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদার আসন দিয়েছে। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি নারীদের সব অধিকার আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সমাজের বুকে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। হজরত খাদিজা (রা.)-এর মতো বিধবা নারীকে বিয়ে করে তৎকালীন সমাজে দৃষ্টান্তমূলক ও সাহসী কাজ করেছিলেন। যদি আমরা ইসলাম-পূর্ব আইয়্যামে জাহেলিয়াত ও ইসলাম-পরবর্তী সময়ের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের কথা তুলনা করি, তাহলে বিষয়টি দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট হয়ে যায়।

ইসলাম আসার আগে সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতে নারীদের সামাজিক মর্যাদা দেয়া তো দূরের কথা তাদের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিল না। কন্যাসন্তান জš§ গ্রহণের কথা শ্রবণ করার সঙ্গে সঙ্গেই সবার মুখ কালো হয়ে যেত। তাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠত এবং এই কন্যাসন্তানকে মাটিতে জীবন্ত কবর দেয়াকেই নিজেদের জন্য সম্মান, মর্যাদা ও পুণ্যের কাজ বলে মনে করত। জাহেলি যুগের সেই সময়কার ভয়াবহ এই অবস্থার কথা তুলে ধরে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। অপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!’ (সুরা নাহল: আয়াত ৫৮, ৫৯)। ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে নারীদের অবস্থা এমনই করুণ ছিল। এমনকি ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মে আজ পর্যন্ত নারী জাতির পূর্ণ অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।

এভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্মেই নারী জাতিকে পাপিষ্ঠ, অলক্ষুণে, অপয়া ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কোনো অধিকার দেয়া তো দূরের কথা, তাদের অনেক ক্ষেত্রে মানুষ বলেই স্বীকার করা হয়নি। তারা নারীদের কেবল ভোগের পণ্য হিসেবেই গণনা করত এবং এখনও করছে। এমনিভাবে সর্বত্রই যখন নারী জাতির এমন লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর অসম্মান, ঠিক সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তৎকালীন সেই বর্বর যুগের অমানুষিক জুলুম থেকে নারীকে মুক্ত করেছিলেন। ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যা নারী জাতিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের যথাযথ অধিকার, প্রাপ্য সম্মান ও সঠিক মর্যাদা।

পুঁজিবাদী সমাজে মূলত নারীর সম্মান ও মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে নারীর দৈহিক সৌন্দর্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠা। আর ইসলামী সমাজে নারীর সম্মান ও মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে তার আল্লাহ ভীরুতা বা তাকওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, এই পৃথিবী এবং এর মধ্যস্থিত সমস্ত কিছুই মূল্যবান। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে একজন সৎকর্মশীল নারী (মুসলিম)। পুঁজিবাদী সমাজ নারীর মাতৃত্বকে কোনো সম্মান ও মর্যাদা দেয়নি। আর ইসলাম নারীকে মা হিসেবে করেছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও মহিমান্বিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ বর্তমান সমাজব্যবস্থা নারীর গৃহকর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজকে করেছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য। আর ইসলাম নারীর গৃহের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, সন্তান জš§দান ও লালনপালন করাকে দিয়েছে জিহাদের মর্যাদা। মূলত এটিই নারীর মৌলিক ও প্রধান কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঘরে তোমরা (নারীরা) তোমাদের সন্তানদের যতœ নাও, আর এটাই তোমাদের জন্য জিহাদ (মুসনাদে আহমাদ)। স্ত্রী হিসেবেও নারীকে ইসলাম দিয়েছে পরিপূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর নিশ্চয়ই আমি আমার স্ত্রীর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি উত্তম (তিরমিজি)।

ইসলাম অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের ওপর নারীকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাবা-মায়ের সম্মান ও মর্যাদা বর্ণনার ক্ষেত্রেও ইসলাম নারীদের অগ্রাধিকার ও অধিক সম্মান দিয়েছে। বাবার চেয়ে মায়ের সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে রাসুলে করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথম তিনবার মায়ের কথা এবং চতুর্থবার বাবার কথা উল্লেখ করেন। তাছাড়া পুরুষদের ওপর নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নারীদের ওপর যেমন তোমাদের কিছু অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনই তোমাদের ওপরও তাদের কিছু অধিকার রয়েছে। স্ত্রীর ওপর পুরুষের মর্যাদা। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২২৮)। বার্ধক্যে নারীদের দায়িত্ব সন্তানদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আর আমি মানুষদের তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি।’ (সুরা আনকাবুত: আয়াত ৮)।

ইসলাম এসে ধাপে ধাপে নারী জাতিকে তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। যেই সমাজে নারীজš§ই পাপ বলে গণ্য হতো সেখানে ইসলাম সর্বপ্রথমই নারীজšে§র অধিকার নিশ্চিত করেছে। নারীসন্তানকে হত্যাকারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আর স্মরণ করো সেই দিনের কথা! যখন জীবন্ত কবরস্থ মেয়েকে জিজ্ঞাসা করা হবেÑকী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা তাকভির, আয়াত ৮-৯)। সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে, এটি নির্ধারণ করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তিনি যাকে চান তাকেই নির্দিষ্ট লিঙ্গের সন্তান দান করেন। কাউকে আবার নিঃসন্তান করে রাখেন। সুতরাং নিঃসন্তানদের তুলনায় কন্যাসন্তানের অভিভাবকরা যে কত অকল্পনীয় মর্যাদার অধিকারী এবং কন্যাসন্তানও যে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা শু’রা: আয়াত ৪৯, ৫০)।

মানবসমাজে নারীজন্মের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কন্যাসন্তানের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পর ইসলাম সম্মান ও মর্যাদার ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষকে সমান ঘোষণা করেছে। জন্মগতভাবে নারী-পুরুষ আল্লাহর কাছে সমান বলে নারীকে সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে পুরুষের সমকক্ষ ঘোষণা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক উৎস থেকে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরও সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরকে কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক (সুরা নিসা: আয়াত ০১)। অন্যত্র ইরশাদ করা হয়েছে, হে মানুষ, আমি তোমাদের এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন (সুরা আল-হুজরাত: ১৩)। আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ ও সফল হওয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে। তাই একজন নারী একজন পুরুষ থেকেও শ্রেষ্ঠ হতে পারে। ওপরের আয়াতে এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মূলত পুরুষদের সতর্ক করা হয়েছে।

পশ্চিমা সমাজ লিভ টুগেদার বা সমকামিতার মতো বিকৃত বিষয় নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলছে, ফলে সমাজে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিয়েবিচ্ছেদ। এ নিয়ে বাড়ছে মামলা ও ব্রোকেন ফ্যামিলির সংখ্যা। অথচ নারী-পুরুষ (বালেগ) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর উভয়েই উভয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। কিন্তু এজন্য এটি যেনতেনভাবে না করে ইসলাম বিয়ের মতো সুন্দর একটি বিধান দিয়েছে। আর এই বিয়ের মাধ্যমে আসলে মূলত ইসলাম নারীদেরই লাভবান করেছে। দিয়েছে সম্মান ও মর্যাদার এক শীর্ষ চূড়া। বিয়ের মাধ্যমে দুটি পরিবারের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নারী-পুরুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষিত হয়। পারিবারিক শান্তি ও সুন্দর নারীর নিজের ভরণ-পোষণের পাশাপাশি সন্তানের দায়িত্বও স্বামীর কাঁধে তুলে দেয়া হয়েছে। বিয়ে সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে বানিয়েছেন তার সঙ্গিনীকে, যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ১৮৯)।

মূলত বিয়ে হচ্ছে আল্লাহর একটি হুকুম ও নেয়ামত এবং এর মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রাকৃতিক চাহিদা বৈধ পন্থায় পূর্ণ করে, পারিবারিক জীবনে প্রশান্তি লাভ করে এবং বৈধভাবে সন্তান জন্ম দান করে। এজন্যই মহানবী (সা.) স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দিতে সক্ষম সকল যুবককে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, বৈরাগ্য জীবনযাপনকে নিষেধ করেছেন; অথচ বর্তমান সমাজে এর সম্পূর্ণ উল্টো যৌতুক নামক এক দানবীয় প্রথা বিয়ের মতো একটি পবিত্র কাজকে বিভীষিকাময় করে তুলছে। ইসলামে পুরুষের ওপর বিয়ের সময় স্ত্রীদের জন্য মোহর দেয়া ফরজ করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং ন্যায়সংগতভাবে তাদের তাদের মোহর দিয়ে দাও (সুরা নিসা: আয়াত ২৫)।

ইসলাম নারীকে শুধু সামাজিক মর্যাদাই দেয়নি, দিয়েছে অর্থনৈতিক অধিকার ও মুক্তির পথ। ইসলামের আগমনের আগে নারীর সম্পত্তির অধিকার ছিল না। সভ্যতার দাবিদার ইংল্যান্ডে ডাইনি বলে নারীকে পুড়িয়ে মারার আইন রদ করা হয় ১৭৩৬ সালে। আর ১৮৮২ সালের আগ পর্যন্ত সেদেশের আইনে নারীদের সম্পত্তি ছিল অবৈধ। অথচ ইসলামে একজন পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নারী, তিনি বিবাহিত হন বা শিশুই হন, কারও সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই আল্লাহর বিধানমতে সম্পদের মালিক হতে পারেন, মালিকানা হস্তান্তরও করতে পারেন। রয়েছে তার বাবা-মায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ন্যায়সংগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। আর যদি শুধু নারীই হয় দুয়ের অধিক, তাহলে তাদের জন্যে ওই ত্যাজ্য মালের তিন ভাগের দুই ভাগ। আর যদি (কন্যা) একজনই হয় তাহলে সেজন্য অর্ধেক (সুরা নিসা: ১১)। এভাবেই ইসলাম সম্পত্তিতে ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইসলাম নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ প্রয়োজনে শরিয়তের সীমা ঠিক রেখে নারীকে কর্মস্থলে যাওয়ারও অনুমতি দিয়েছে। ইসলাম নারীর নিজের প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পিতা, স্বামী ও সন্তানের ওপর ন্যস্ত করলেও নারীর নিজের আয়, নিজের সম্পত্তি কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সেখান থেকে অর্জিত মুনাফা প্রভৃতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা নারীর হাতে দিয়েছে। এক্ষেত্রে জোর করে অন্য কারও জন্য সম্পদ গ্রাস করাকেও হারাম করেছে। সমাজে কেউ যেন নারী জাতির অবমাননা করতে না পারে, সেটিও ইসলাম নিশ্চিত করেছে। অন্যায়ভাবে কেউ কোনো নারীকে অপবাদ দিলে তার জন্য শাস্তির বিধান দিয়েছে।

বর্তমান সময়ের মতো নারীদের পক্ষে যখন আন্দোলন বা ‘অধিকার, অধিকার’ বলে চিৎকার করার মতো কোনো মানুষ ছিল না; তখন রাসুল (সা.) নারীর প্রতি ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রিয় নবি (সা.) সেই অন্ধকার যুগের অজ্ঞ ও বর্বর মানুষের কাছে নারীদের সর্বোত্তম মর্যাদা ও সম্মানের কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘মায়ের পায়ের তলে রয়েছে জান্নাত।’ যাতে কোনো মানুষ এ মায়ের জাতি নারীদের সঙ্গে খারাপ বা অন্যায়মূলক কোনো আচরণ করতে না পারে। এখন থেকে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে সকল প্রকার নারী নির্যাতন ও যৌন ব্যবসা। উপযুক্ত সম্মানের সঙ্গে নিশ্চিত করেছে নারীর সুস্পষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার। ইসলামে এভাবে নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে, অথচ বিশ্বের নানা প্রান্তে এখনও নারীদের দেখা হয় কেবল যৌনতার প্রতীক রূপে, আর্থিক মানদণ্ডে এবং ভোগের উপাদান হিসেবে। এর ফলে প্রতিনিয়ত নারীরা শুধু নির্যাতিতই হচ্ছে না, হারাচ্ছে তাদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা।

ব্যাংকার ও মুক্ত লেখক

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..