মার্কেটওয়াচ

ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ইপিএস বেড়েছে ৪৯ পয়সা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেবা ও আবাসন খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৪৯ পয়সা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৬০ টাকা ১১ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৫৮ টাকা ৮৭ পয়সা।

গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বা চার টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৫০ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫০ টাকা ৪০ পয়সা। ওই দিন ১১ কোটি ২৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ১৪০টি শেয়ার মোট ৫২৮ বার হাতবদল হয়। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ৩৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৫৬ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে।

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৩৩ পয়সা এবং এনএভি ৫৮ টাকা ৮৭ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাওয়া কনভেনশন হল, ভিআইপি রোড, মহাখালী, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৩টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৫০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরুরি পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক গতিতে যে ছন্দপতন হয়, তার জন্য অনেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দায়ী করেন। বিনিয়োগ-সীমা অতিক্রম করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাত ব্যাংককে জরিমানা করে। এ কারণে ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এটা ঠিক; কিন্তু ব্যাংকগুলো যেহেতু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, তাই তাদের বিষয়ে বিএসইসিরও দায়দায়িত্ব আছে এটাও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাথায় রাখতে হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা ও পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও মো. আবদুল মুকতাদির, সিএফএ।

এম শাহজাহান মিনা বলেন, পুঁজিবাজারে অনেক সংস্কারমূলক কাজ ও আইন-কানুন পরিবর্তনের পর একটি ইতিবাচক ফল পাচ্ছিলাম। গত পাঁচ-সাত মাসে দেখা গেছে বাজারে বেশ গতি এসেছিল এবং সূচক ও ট্রেড ভলিউমও মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাজার আবার পড়ে যায়। আর বাজার পতনের মূল কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক্সপোজার-সংক্রান্ত কঠোর সিদ্ধান্ত। কিছু ব্যাংকের এক্সপোজার-সীমা অতিক্রম করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরিমানা করেছে এবং আরও কিছু ব্যাংককে তারা নজরদারিতে রেখেছে। এতে বাজারে এক ধরনের সংকেত এসেছে যে, ব্যাংকগুলো যেভাবে এগোচ্ছে, এভাবে না যাওয়াই ভালো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে আমি সমালোচনা করছি না। তবে এক্সপোজার-সীমা মার্কেট প্রাইজে না ধরে কস্ট প্রাইসে ধরা উচিত বলে মনে করি। বিনিয়োগ-সীমা মার্কেট প্রাইসে ধরাতে অনেক ব্যাংককেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে শেয়ার বিক্রি করতে হয়েছে। যে কারণে বাজারে একটি নেতিবাচক প্রভাব আমরা লক্ষ্য করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো পুঁজিবাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তারা তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিগুলোকেও এক্সপোজার-সীমার মধ্যে গণ্য করছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়; কারণ যেসব কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো কি পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে সেটি দেখবে। অন্য কথায় কি বিনিয়োগ হচ্ছে, তা হয়তো না দেখাই ভালো। তাছাড়া সব ব্যাংকেই অলস টাকা পড়ে আছে। তারা বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যদিকে আমরা হাত-পা বেঁধে দিচ্ছি তোমরা বিনিয়োগ করতে পারবা না। আরও একটি বিষয় হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকগুলো তাদের ইকুইটির ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে। যা আগে ১০ শতাংশ ছিল। আর ১০ শতাংশে যে পরিমাণ মূলধন বাজারে আসত, এখন ২৫ শতাংশ ইকুইটি হওয়ায় তার চার ভাগের এক ভাগও হয়তো বাজারে আসছে না। এমন চলতে থাকলে পুঁজিবাজারের যে প্রসার, সেটি হবে না। এ জন্য আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তিনটি বিষয়ে আরও উদার হতে হবে।

মো. আবদুল মুকতাদির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে ব্যাংকগুলো তার অধীনে। তাই ব্যাংকগুলোর ব্যাপারে তারা কারও সঙ্গে আলোচনা করবে না। কিন্তু ব্যাংকগুলো যে পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত কোম্পানি, তা হয়তো তারা মাথায় রাখে না। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছাড়াও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যেগুলোই হবে, তাদের সবারই নিয়ন্ত্রণ থাকবে এসইসির হাতে। একটি পাবলিক কোম্পানি যদি বন্ড ইস্যু বা মার্জিন নিতে চায়, তাহলে তাদেরও কিন্তু বিএসইসি থেকে অনুমোদন নিতে হয়। ফলে একটি পাবলিক কোম্পানির ক্ষেত্রে যখন কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিদ্ধান্ত নেবে, তখন তাদের মধ্যে অবশ্যই সমন্বয় থাকতে হবে।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..