ই-কমার্সকে নিবন্ধন নিতে হবে দুই মাসের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইভ্যালিসহ বিভিন্ন কোম্পানির শত শত কোটি টাকার প্রতারণা ও আত্মসাতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স খাতের কোম্পানিগুলোকে দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এবং এর সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ নিবন্ধন হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিপোজিট রাখতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা হলে সেই ডিপোজিট থেকে সমাধান করা যায়।’

ই-কমার্স খাতে অনিয়ম বন্ধ করতে বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিট), ডিজিটাল মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নজরদারি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘নিবন্ধনের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনায় ব্যাপক প্রচারের কথা বলা হয়েছে, নিবন্ধিত কোম্পানির বাইরে কেউ লেনদেন করলে সরকার দায়িত্ব নেবে না বলেও প্রচার চালানো হবে।’

দেশে ই-কমার্সের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল, এর মধ্যে কভিড মহামারি শুরু হলে নতুন বেশ কিছু কোম্পানি রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করে।

বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এসব কোম্পানি লাখ লাখ গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে এখন।

অনেকে অর্ধেক দামে পণ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ টাকার অর্ডার করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পণ্য বুঝে পাননি, কোম্পানি তাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এসব ঘটনায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য না পাওয়া গ্রাহকরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..