ই-কমার্সের জন্য স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা আবশ্যক

প্রতারিত হওয়া আমাদের নিরীহ জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক নিয়তি। মানুষ প্রতারিত হয়েছে আইটিসিএল, গণ সাহায্য সংস্থা, আর্থ ফাউন্ডেশন, যুবক, ডেসটিনি, এহসান প্রভৃতি সংগঠনের মাধ্যমে। কখনও এনজিও, কখনও এমএলএম, কখনও কো-অপারেটিভ সমিতির নামে একশ্রেণির মানুষের দ্বারা সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে নিত্যনতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করছে সুযোগসন্ধানীরা।

গতকালও প্রতারণার খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। ৯ মাসে প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘সহজ লাইফ’ নামীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান সহজ লাইফের নিশানায় ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের সহজ-সরল লোকজন। ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে তাদের অনেকেই হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটিতে। সুযোগ বুঝে বিনিয়োগের টাকা পকেটে ভরে হাওয়া হয়ে গেছে প্রতারকরা। খবরে জানা গেছে, এক হাজার ১০০ টাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে একটি অ্যাকাউন্ট খুললে ৮৫০ টাকা দামের এককালীন পণ্য পাবেন গ্রাহক। অবশিষ্ট পুঁজি খাটিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে ৬০০ টাকা আয়ের সুযোগ পাবেন তিনি। সেই হিসাবে লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে গ্রাহকের আয় হবে ৬০ হাজার টাকা। এ লাভের বিনিময়ে গ্রাহককে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন পণ্যের তিন সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। লোভনীয় এ প্রস্তাবের ফাঁদে পড়ে প্রায় ৯ মাসে গাজীপুরের প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহকের দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে প্রতারকচক্র।

সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্স ব্যবসা খুব আলোচিত। এ সময়েই নতুন প্রতারণার খবরে প্রতীয়মান হয়, প্রতারকরা বসে নেই, তারা নিত্য নতুন কৌশল উদ্ভাবনে মত্ত। অনেকে বলবেন ‘সহজ লাইফ’ বেশি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়নি, মাত্র দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা! কিন্তু এতে এমন লোকদের ‘লাইফ’ কঠিন হয়ে গেছে, যারা দিন আনে দিন খায়।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী র‌্যাবের হাতে ধৃত হওয়ার তারা প্রকৃত পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। তিনি শেয়ারবাজারে এসে দেউলিয়া হয়ে যাবেন। সময়মতো দেশ ত্যাগ করবেন। ইভ্যালিসহ অন্য কয়েকটি ই-কমার্স সরকারের নজরদারিতে রয়েছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা ঠিকই চলছে। অনলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে গ্রাহকপর্যায়ে সরাসরি পণ্য পৌঁছে দিতে দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ই-কমার্স ব্যবসা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সে জনপ্রিয়তা নিয়ে কী করেছে, সেটি কমবেশি সবাই জানেন। ভুক্তভোগীরা একটু বেশিই জানেন। গ্রাহক তথা নাগরিকরা যেন নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

গ্রাহকরা অবশ্যই নিজ দায়িত্বে সচেতন হবেন। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) গ্রাহকদের বলছে, ‘চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারিত হবেন না।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ‘কেউ প্রতারিত হলে জানান, যথাযথ ব্যবস্থা নেব’। কিন্তু গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন, তা বুঝতেই অনেক সময় লেগে যায়। ই-কমার্স বন্ধ করে দিলেই প্রতারণা বন্ধ হবে, এমন নয়। আধুনিক যুগে ই-কমার্সের বিকল্প নেই। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়, সেজন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..