প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ই-কমার্সে এসএমই পণ্য রফতানি বেড়েছে চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের মূল ভূখণ্ডের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) শিল্পপণ্য ই-কমার্স এবং অন্য ডিজিটাল চ্যানেলে রফতানি বেড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের চেয়ে ই-কমার্সে বেশি রফতানি করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ফেডএক্সের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদিত পণ্যের ৯৭ শতাংশই ই-কমার্স ও অন্য ডিজিটাল চ্যানেলে রফতানি করেছে চীনের অন্তত ৫০০ এসএমই প্রতিষ্ঠান। একই সময় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোসহ অন্য দেশগুলো ই-কমার্সে এসএমই পণ্য রফতানি করেছে উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশ।

গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বিশ্বের ১৭টি দেশে জরিপ চালায় ফেডএক্স। এতে ব্রিটেনের এসএমই খাতের এক হাজার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী এবং অন্য বাজারগুলোর ৫০০ জন করে নির্বাহীর সাক্ষাৎকার নেন ফেডএক্সকর্মীরা।

ফেডএক্স চায়নার প্রধান নির্বাহী ইডি চান বলেন, চীনের এসএমই খাতের নির্বাহীদের ৬১ শতাংশই মনে করেন, আগামী বছর ই-কমার্সে লেনদেন আরও বাড়বে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ৪০ এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৪৪ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।

জরিপের তথ্য উল্লেখ করে ফেডএক্স জানায়, চীনের ৯৪ শতাংশ এসএমইর লেনদেন হয় মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এটি মোট আয়ের ২৫ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগে লেনদেনের মাধ্যমে আয় হয়েছে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর এসএমইর এ দুই চ্যানেল ব্যবহার করে ৫৯ শতাংশ এবং বিশ্বের অন্য অঞ্চলের ৬৭ শতাংশ।

ইডি চান আরও বলেন, এসএমইতে লেনদেনে অন্য দেশগুলোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। রফতানিকারকদের ৯৩ শতাংশই পূর্বাভাস দিয়েছে, তাদের আয়ের অবস্থান একই থাকবে বা পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে ঊর্ধ্বগামী হবে।

চীনের ওই উদ্যোক্তারা আরও বলেন, যদিও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সুযোগ বেড়েছে কিন্তু এটি চ্যালেঞ্জও বটে।  উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতাও করতে হচ্ছে।

চীনের প্রায় ৪৮ শতাংশ উদ্যোক্তা বলেছেন, নতুন প্রযুক্তি তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে এবং ৮১ শতাংশ উদ্যোক্তা বলছেন, নতুন প্রযুক্তিপণ্য রফতানি সহজতর করে তোলে।

চীনের ই-কমার্স রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, গত বছর ই-কমার্সে পণ্য রফতানি করে চার দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ৬৪৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন দেশটির এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী (বিটুবি) এবং ব্যবসায়ী-ক্রেতা (বিটুসি) উভয় পদ্ধতিতে   এটি আগের বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

চীনের স্টেট কাউন্সিল গত বছরের জুনে ক্রস বর্ডার ই-কমার্সকে শক্তিশালী ও দ্রুত করতে সুষ্ঠু নীতি, নজরদারি  এবং ব্যবসার প্রত্যেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাবান্ধব কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১২টি নির্দেশনাসংবলিত গাইডলাইন প্রকাশ করে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এতে ভালোই সুফল পাচ্ছেন চীনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।