দিনের খবর শেষ পাতা

ই-কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় ই-কমার্সে বিগত বছরগুলোয় প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশ, গত বছর তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৩০০ শতাংশও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বলে এক ওয়েবিনারে জানিয়েছে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব।

দেশে কভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারও শুরু হয়েছে লকডাউন। আবারও ই-কমার্স খাত বড় একটা লাফ দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় গ্রোসারি পণ্যে এই উল্লম্ফন বেশ দৃশ্যমান বলে জানা গেছে। এছাড়া ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে ডেলিভারি অর্ডার।

জানা গেছে, চাল-ডাল ডটকম গ্রোসারিতে এগিয়ে রয়েছে। ই-ভ্যালি ক্যাশ অন ডেলিভারিতে (সিওডি) এক ঘণ্টার মধ্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারি চালু করেছে। দারাজ বাজার-সদাইয়ে দিচ্ছে ছাড়। প্রিয়শপ ডটকম নানা অফার নিয়ে হাজির হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবার বেচাবিক্রি ভালো হলেও গ্রোসারির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। চাল-ডাল, মাছ-মাংস, সবজি, প্যাকেটজাত খাবার ও ফ্রোজেন ফুড আইটেমের চাহিদা আকাশচুম্বী।

ই-কমার্সের উত্থানের বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, বাংলাদেশের ই-কমার্স এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়েছে প্রবৃদ্ধির একটা উদাহরণ হিসেবে। বিশ্বের যে তিনটি দেশ করোনাকালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

জানতে চাইলে প্রিয়শপ ডটকমের প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খান বলেন, ‘এবারের লকডাউনেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে, বলা যায় ১৫০ শতাংশ।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর লকডাউনে যেভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, এবার ততটা হয়নি। তবে এবারও বেচাকেনা বেশ ভালো। কিছু মানুষের অভ্যাস তৈরি হয়েছে অনলাইন কেনাকাটায়।

গ্রোসারির পরে রয়েছে নানা গ্যাজেট আইটেম। ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদাও বাড়তির দিকে। পিকাবো ডটকমের প্রধান নির্বাহী মরিন তালুকদার জানালেন, বিক্রি বেড়েছে। তারা এর মাঝেও নানা ধরনের উদ্যোগ ও অফার নিয়ে হাজির হয়েছেন ক্রেতাদের সামনে।

গ্যাজেটস ও লাইফ স্টাইল পণ্যের অনলাইন শপ সেলেক্সট্রা ডটকম ডট বিডি লকডাউনে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ অফার ছাড় ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে মটোরোলার ন্যাশনাল পার্টনার সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত বলেন, ‘‘আমরা স্মার্ট ফোনপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছি ‘হ্যালো বৈশাখ’ অফার। ক্যাম্পেইনের আওতায় ক্রেতারা ‘মটো পকেট গরম’ অফার উপভোগ করতে পারবেন।’’ তিনি জানান, এছাড়া লকডাউনে ক্রেতারা ঘরে বসেই এখন অরিজিনাল মটোরোলা ডিভাইস কিনতে পারবেন। সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টায় ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিসও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, ই-কমার্সে বড় উল্লম্ফন হয়েছে, কিন্তু সেটা ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরের অবস্থা বেশ খারাপ। গত লকডাউনে ঢাকায় যেমন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, তেমনি বাইরের চিত্র ছিল বেশ নেতিবাচক। এবারের চিত্রও মোটামুটি একই রকম। তবে ঢাকায় গ্রোসারির (নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী) চাহিদা বেশি থাকায় শতাংশের হিসাবে ই-কমার্স বেশ খানিকটা এগিয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও কয়েকদিন পার হলে এবারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। তখন প্রবৃদ্ধির শতাংশের পরিমাণও বের হয়ে আসবে।

এদিকে ফুড ডেলভারিও বেড়েছে। রেস্টুরেন্টগুলোয় গিয়ে বসে খাওয়ার সুযোগ না থাকায় অর্ডারের পরিমাণ বেড়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাঠাওয়ের পরিচালক (বিপণন) সৈয়দা নাবিলা মাহবুব জানান, তাদের রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও পাঠাও ফুডসহ অন্য সেবা চালু আছে। পাঠাও ফুডের সার্ভিসের চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি জানান।

উবারের মুখপাত্র জানান, তাদের শুধু রাইড শেয়ারিং উবার মটো বন্ধ রয়েছে। চালু রয়েছে উবার পার্সেল সার্ভিস। উবার পার্সেলের চাহিদাও বেড়েছে।

লজিস্টিকস তথা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ইকুরিয়ারের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিন থেকে আমাদের সেবা চালু আছে।’ লকডাউনে ডেলিভারির চাহিদা বাড়তে পারে বলে তিনি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। ফলে লকডাউনের মধ্যে সেবা দিতে তার কোনো সমস্যা হয়নি।

এবারের বইমেলা লকডাউনের মধ্যে পড়েছে। বইপ্রেমীরা মেলায় খুব একটা যেতে না পারলেও অনলাইনে বইয়ের অর্ডার করছেন। অনলাইনে বই বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে রকমারি ডটকম। রয়েছে ছাড়। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করলে মিলছে ক্যাশব্যাকও। এতে করে বইমেলায় যাওয়ার খরচ ও সময় বেচেছে।  রকমারি সূত্রে জানা গেছে, বই বিক্রি অনেক বেড়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..