ই-কমার্স ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিন

আধুনিক যুগে ব্যবসায় বিপ্লব এনেছে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স। ডিজিটাল এ ব্যবসা পদ্ধতি সম্পর্কে সবার কমবেশি ধারণা আছে। এখানে ব্যবসার সব কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রেতা যেকোনো স্থানে বসেই যে কোনো পণ্যের মান, পণ্যের দাম সম্পর্কে জানতে পারেন, কিনতে পারেন। এখন অনলাইন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেÑআমাজন, ফ্লিপকার্ট, ইবে, আলিবাবার নাম শোনেননি, এমন শিক্ষিত লোক খুব কমই আছেন। ই-কমার্স জনসাধারণের জীবনধারার প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে কেনাকাটা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং,ই-টিকিটিং, হোটেল বুকিং, ট্রেন ও ফ্লাইট বুকিং ঘরে বসেই করা যায়। 

আমাদের দেশে ক্রমেই ক্রেতাসাধারণ ই-কমার্সে ঝুঁকছেন। একশ্রেণির ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমাদের এখানে ব্যবসা ও প্রতারণা একসঙ্গে চলছে। ই-কমার্সে প্রতারণায় কে পথিকৃৎ, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ই-অরেঞ্জ ও ইভ্যালি আলোচনায় রয়েছে। বিজ্ঞাপন ঝড় তুলে এসেছে আলেশা মার্ট। অভিযোগ রয়েছে, এটির বিরুদ্ধেও। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘চটকদার অফারের আড়ালে আলেশা মার্টের প্রতারণার ফাঁদ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা গেল, প্রতারণায় পিছিয়ে কোনো অংশে নেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি।

খবরে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাচ্ছেন না গ্রাহক, রিফান্ড পেতেও নানা ভোগান্তি। আলেশা মার্টের ফেসবুক পেজে রয়েছে গ্রাহকদের নানা অভিযোগ। এসব বিষয় নিয়ে কল সেন্টারে ফোন করেও গ্রাহকরা কথা বলতে পারছেন না।

ইভ্যালির উদ্যোক্তা আটক হওয়ার পর ই-কমার্স ব্যবসার স্বরূপ উšে§াচিত হতে শুরু করেছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বিক্রেতা-গ্রাহক যখন ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, তখন বিষয়টি সামনে এলো। ই-কমার্সের নামে প্রতারণা চলছে রাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনী, বিশেষজ্ঞ কেউই জানল না; বুঝল না। অথচ গ্রাহকরা প্রতারিত হলো। কেউ ধরা পড়লেও গ্রাহক আদৌ ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না বলা যায় না। আরও আগেই প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়া যেত। পণ্য কিনে ভোক্তাদের ঠকে যাওয়া, বিক্রেতা কর্তৃক নি¤œমানের পণ্য প্রদান, টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়া, পণ্য বিক্রির পরও গ্রাহক কর্তৃক পণ্য গ্রহণ না করা বা ফিরিয়ে দেয়াসহ কিছু ই-কমার্স কোম্পানির কর্মকাণ্ড ছিল ওপেন সিক্রেট! বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ই-কমার্স প্রক্রিয়া সুচারুভাবে পরিচালনায় নির্দেশিকা জারি করেছে। কিন্তু নজরদারি না থাকায় সুফল আসেনি।

নির্দেশিকা জারির ফলে ই-কমার্স ব্যবস্থাপনা সরকারের আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে এলো। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে সবাই আশা করছিল। কিন্তু বিক্রেতা-গ্রাহককে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ই-কমার্সের মাধ্যমে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না; নেশা সামগ্রী ও বিস্ফোরক কেনাবেচা করা যাবে না। কিন্তু এগুলো কেনাবেচা না করেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো কত মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলল। তাই শুধু নির্দেশিকা জারি নয়, নিবিড় নজরদারি করতে হবে। ব্যবসার নামে প্রতারণায় জড়িতদের শূন্য সহনশীলতায় কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রতারণা বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, রাষ্ট্র কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। কেননা ই-কমার্স ব্যবসা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তারা কীভাবে সচেতন হবেন, তাও জানাতে হবে।

সর্বশেষ..