প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা: পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ বাড়লো আরও এক বছর

 

সোহেল রহমান: শতভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্রয় প্রক্রিয়া চালু করতে চলমান ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়োগ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে সরকার। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই বর্র্ধিত মেয়াদ গণনা শুরু হবে এবং শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। এ জন্য ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ সরকারের ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ কাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে যৌথভাবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জিএসএস ইনফোটেক লিমিটেড ও দেশি প্রতিষ্ঠান দোহাটেক নিউ মিডিয়া।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

নিয়োগ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  এ অবস্থায় দেশের সর্বস্তরে ই-জিপি পদ্ধতি চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে নিয়োগ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-জিপি পোর্টালে উদ্ভূত বিষয়াদি দ্রুত উপলব্ধি করা এবং তা দ্রুত সমাধান করা সহজতর হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি পরিহার করাও সহজ হবে। এ বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিদ্যমান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালের জুন থেকে অনলাইনে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত এক হাজার ২৩৩টি সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার মধ্যে ৯১০টিকে ই-জিপির আওতায় আনা হয়েছে। শতকরা হিসাবে প্রায় ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ই-জিপির আওতায় এসেছে। ইজিপি চালু হওয়ার পর এ খাতে এ পর্যন্ত সরকারের আয় হয়েছে ১২০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। চলমান ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চলতি অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৫০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়

এদিকে গতকাল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়োগ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়াও ২৫ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির দুটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি পর্যায়ে বিএডিসির সঙ্গে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ‘ওসিপি’ থেকে প্রথম লটের ২৫ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার এবং তিউনিশিয়ার ‘জিসিটি’ থেকে প্রথম লটের ২৫ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটন টিএসপি সার ২৭০ দশমিক ৭৫ ডলার হিসেবে মরক্কো থেকে আমদানি করা সারের মূল্য হচ্ছে ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং প্রতিটন টিএসপি সার ২৭৯ দশমিক ৫০ ডলার হিসেবে তিউনিশিয়া থেকে আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।