প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ই-ভ্যালিতে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দিতে উদ্যোগ নিন

বেশ কয়েক বছর ধরেই অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত মানুষ। মহামারি কভিডকালের বিধিনিষেধে যখন মানুষ একপ্রকার ঘরবন্দি হয়েছে, তখন বাধ্য হয়েই অনেকে অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকে পড়েন। এ সুযোগে একশ্রেণির ই-কমার্স (ইলেকট্রনিক কমার্স) উদ্যোক্তা নিয়মনীতি না মেনে অর্থ উপার্জনে নেমে পড়েন। ই-অরেঞ্জ, ই-ভ্যালি প্রভৃতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চটকদার বিজ্ঞাপন ও লোভনীয় অফার দিয়ে দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ অন্য জিনিসপত্র বিশেষ মূল্যছাড়ে কেনার জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো হিসাবে অগ্রিম অর্থ জমা দেয়। বেশ কয়েকটি গ্রাহক অর্থ ও মার্চেন্টদের পণ্য হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। তারপরের কথা অনেকেই জানেন।

সরকার নিযুক্ত ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শুক্রবার জানিয়েছেন, ইভ্যালির পাসওয়ার্ড না পাওয়ায় গ্রাহক ও এজেন্টদের লেনদেনের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ইভ্যালির যে অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ইভ্যালির গ্রাহকদের কার কী পরিমাণ লেনদেন, তা এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে। বারবার ধরনা দিয়েও ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়নি।

অনলাইনে যারা কেনাকাটা করেন, তারা এখন অনেক সচেতন। ই-কর্মাসের কতিপয় উদ্যোক্তা যা করেছেন, তাতে সচেতন হওয়ার বিকল্পও নেই। সচেতন হওয়ার জন্য অনেক মূল্য দিয়েছেন আগের গ্রাহক অর্থ ও মার্চেন্টরা। অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

‘বারবার ধরনা দিয়েও ইভ্যালির পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়নি’ ইভ্যালির পুনর্গঠিত পরিষদ চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য হতাশার। রাসেল এমন কেউকেটা নন যে, তার কাছ থেকে ‘পাসওয়ার্ড’ উদ্ধার করা যাবে না। 

গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা, ২০২২’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে এ নিবন্ধন করা যাবে। আর ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াÑযেখানেই ব্যবসা পরিচালনা করা হোক না কেন, সেখানেই বাধ্যতামূলকভাবে এই ডিবিআইডি নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নির্দেশিকাটি যথারীতি পরিপালিত হলে ডিজিটাল কমার্স ব্যবসায় শৃঙ্খলা আসবে, প্রতারণা কমবে। কিন্তু ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড যে গায়েব হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

ইভ্যালিতে যেহেতু সম্পদের চেয়ে ক্রয়াদেশদাতা ও পণ্য সরবরাহকারীদেরও পাওনা অনেক বেশি, তাই ক্রয়াদেশদাতা ও পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করাও দুঃসাধ্য হবে। যেভাবেই হোক পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে হবে। ইভ্য্যালির দৃশ্যমান সম্পদ না থাকায় অর্থ পাচারের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে ই-কমার্স, ডিজিটাল কমার্স টিকিয়েই রাখতে হবে। এখাতে যাতে কোনো অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা শূন্য সহনশীলতায় দমন করতে হবে।