সম্পাদকীয়

ই-সিগারেট বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হোক

তামাকজাত সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেটকে অনেকে নিরাপদ হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। এর প্রবর্তক ও বাজারজাতকারীরা বলেছেন, প্রচলিত সিগারেটের মতোই এর বাষ্প ধূমপায়ীদের দেয় সিগারেটের তৃপ্তি, কিন্তু কোনো ক্ষতি করে না। ফলে ধূমপায়ীদের জন্য প্রচলিত সিগারেটের বিকল্প হয়ে উঠছিল, অনেকে ধূমপান ছাড়ার জন্য এটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নতুন পণ্য হিসেবে আমাদের দেশের অনেক ধূমপায়ী ই-সিগারেটে ঝুঁকছিলেন। তবে আশার কথা, এ বিষয়ে মানুষ সচেতন হতে শুরু করেছে। গতকাল শেয়ার বিজে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩০টিরও বেশি দেশে ই-সিগারেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ সিগারেট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট (ই-সিগারেট, এইচটিপি): বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তরুণ ও শিশুদের টার্গেট করে বিভিন্ন দেশে ই-সিগারেট জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো।
ধূমপানে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারিতা নেই। এটি আর দশটি মাদক বা নেশাজাতীয় পণ্যের সঙ্গে তুলনীয় নয়। মাদক যে গ্রহণ করে, তাতে সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ধূমপানে কেবল ব্যক্তি নিজেই ক্ষতির শিকার হন না, ধূমপানকালে তার পাশে উপস্থিত সবাই ক্ষতির শিকার হন। ধারণা করা হয়, ধূমপানকে নিরাপদ হিসেবে বৈধতা দিতে কিংবা এর পক্ষে যুক্তি দিতেই ব্যবসায়িক কৌশলে ই-সিগারেট বাজারে ছাড়া হয়। তবে প্রচলিত সিগারেটের সঙ্গে এর তেমন ফারাক নেই বলেই প্রতীয়মান। ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন দ্রবণ ব্যাটারির মাধ্যমে গরম হয়ে ধোঁয়া তৈরি হয়। এটি মস্তিষ্কে ধূমপানের মতো অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাই ই-সিগারেটের নিকোটিন থেকেও হতে পারে ক্যান্সার। নেশা কমানোর কথা বলা হলেও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এই তরলে আসক্তি আরও বেশি। এটি ভবিষ্যতে ফের ধূমপান বা অন্য কোনো নেশার দিকে ধূমপায়ীকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।
এমনিতেই বিশ্বে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমছে। এ অবস্থায় নতুন কোনো নেশাজাতীয় পণ্যের বাজারজাত বিপণন কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। জনবান্ধব আইন চালু করতে বাদ সাধেন কোনো মন্ত্রী বা প্রভাবশালী রাজনীতিক, মন দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ই-সিগারেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে এটি বিপণন ও বাজারজাত বন্ধ করা সম্ভব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..