মত-বিশ্লেষণ

ঈদযাত্রায় সচেতনতা জরুরি

রুকাইয়া মিজান মিমি: মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় আনন্দ উৎসব ঈদ। ঈদে কর্মস্থল থেকে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার তাগিদে প্রতি বছরই লঞ্চ, বাস ও ট্রেনে থাকে উপচেপড়া ভিড়। তবে কভিড মহামারির কবলে পড়ে অতীতের সব বছরগুলোর চেয়ে গতবার থেকে এই আনন্দ-উৎসব সøান হয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। আর এই দ্বিতীয় ঢেউ প্রথম ঢেউয়ের থেকেও অধিক মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মার্চ ও এপ্রিলে গড়েছে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রিকোর্ড। হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বিপন্নের শঙ্কায় সংক্রমণ কমাতে সরকার বাধ্য হয়েই ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন জারি করেছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হলেও বন্ধ করা হয়েছে দূরপাল্লার আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনগণ যেন কর্মস্থলেই থাকে সে নিমিত্তে ঈদে সরকারি ও বেসরকারি ছুটিও মাত্র তিনদিন করা হয়েছে। তবুও সব বাধা পেরিয়ে কমছে না ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ। সবাই যেন শেকড়ের টানে মারিয়া হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গাবতলীসহ বাসস্ট্যান্ডগুলো যাত্রীতে ভরে গেছে। বাস না পেয়ে তারা সিএনজি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার ভাড়া করে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করেই যে যার মতো ঘরের পানে ছুটছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন শ্রমিক মালিকরা গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।  এদিকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ ফেরিঘাটগুলোও মানুষে-মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। অথচ তাদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা, সামান্য মাস্ক পরতেও দেখা যায়নি অনেককে। বেগতিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাতে শনিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের ঊর্ধ্বমুখী চাপে তা আর কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বিআইডব্লিউটিসির। শনিবার দুপুর ১টা থেকে ফের ফেরি চলাচল শুরু করে দেন যাত্রীরা। যাত্রীদের উদাসীনতায় ঈদে আনন্দে দেশের সর্বত্র করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০ অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৩১। এছাড়া আহতের সংখ্যাও কম নয়। অন্যদিকে নৌপথেও মাঝে মধ্যেই ঘটে বড় রকমের দুর্ঘটনা, যা সড়ক দুর্ঘটনার থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। আর এভাবে অনিরাপত্তায় যাত্রীবোঝাই করে গন্তব্যে ছুটে চলায় এসব দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। তাই ঈদযাত্রা যেন বিশাদে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর দেয়াও জরুরি। এছাড়া গত শনিবার দেশে ইতোমধ্যে যশোরের কোয়ারেন্টাইনে ছয়জনের মধ্যে ভারতের করোনা মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অতলে ডুবে গেছে বিশ্লেষকরা। এটি যদি দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভারতের মতো ভয়াবহ পরিণতির শিকার হবে বাংলাদেশও। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের ঈদে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান না করলে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকি এড়ানো হয়তো সম্ভবপর হবে না। করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি জনগণের সজাগ দৃষ্টিভঙ্গিও প্রয়োজন। একমাত্র সচেতনতাই পারে মহামারি কভিড থেকে রক্ষা করতে।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..