প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঈদুল আজহা ও ভ্রাতৃত্বের উৎসব

পাঠকের চিঠি

মুসলমানদের বড় দুটি ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা শব্দের অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। ঈদুল আজহা কোরবানি ঈদ নামেও পরিচিত। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এই  উৎসবটি হলো মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উৎসব, ত্যাগের উৎসব, সম্প্রীতি ও খাবার ভাগ করে খাওয়ার উৎসব। এই উৎসবকে মহান আল্লাহ্ হজরত ইব্রাহিম (আ) ও হজরত ইসমাইল (আ)-এর স্মৃতি জাগরূক রাখতে মুসলিম জাতির ওপর ওয়াজিবকরে দিয়েছেন।

ঈদুল আজহার পবিত্র এই দিনে মুসলমানরা ফজরের নামাজের পর পবিত্র ঈদগাহে যায় এবং ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করার পর উট, গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও দুম্বা জবাই করার মাধ্যমে এই দিনটি উদ্যাপন করে থাকে।

মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র এই দিনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কোরবানি করাকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি করাকে ওয়াজিব করেই শেষ করেননি, বরং তাতে আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন ও গরিব-দুঃখীদের জবাইকৃত পশুর মাংসের ভাগের পরিমাণও নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যাতে করে ভাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। উৎসবমুখর পবিত্র এই দিনে যাতে সবার মুখে হাসি ফোটে এবং ধনী-গরিব সবাই যাতে একই খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে, তা আল্লাহ্ তায়ালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তায়ালা এমনিতেই ধনীদের সম্পদের মধ্যে গরিবদের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং ঈদুল আজহার মাধ্যমে খাবারেও অংশীদার বানিয়ে দিয়েছেন, যাতে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি, ভাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়।

আমাদের সমাজে নানা ধরনের মানুষের বসবাস। আমাদের নানা ধরনের ব্যস্ততার কারণে আমাদের প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের আমরা খোঁজ-খবর সঠিকভাবে নিতে পারি না। অন্তত এই একটি দিনকে উপলক্ষ করে আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিতে পারি  এবং আমাদের জবাইকৃত পশুর মাংসও তাদের বাসায় পৌঁছে দিতে পারি। পবিত্র ঈদুল আজহার এই উৎসবমুখর দিনটির জন্যই আমাদের প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মাঝে দৃঢ়তা তৈরি হয় এবং দূরত্ব কমে আসে। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস এই উৎসবমুখর দিনটি উপলক্ষে আমরা তাদের সঙ্গেও আমাদের জবাইকৃত পশুর মাংস ভাগ করে নিয়ে থাকি। এতে তাদের সঙ্গেও আমাদের সামাজিক বন্ধন মজবুত হয়।

মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিত, মহান আল্লাহ্ তায়ালার যথাযথ বিধান কায়েম করার লক্ষ্যে কোরবানি করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা।

ওয়াছকুরুনী ফারাবী

শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

কুষ্টিয়া