মত-বিশ্লেষণ

ঈদুল ফিতরে করণীয়

ইসলামে ঈদের প্রবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরিতে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন মদিনায় আসেন তখন দেখেন যে, সেখানকার লোকরা বছরে দু’দিন (নওরোজ ও মেহেরজান) আনন্দ করে, খেলাধুলা করে। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের এ দু’দিনের পরিবর্তে আরও বেশি উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা ও ২. ঈদুল ফিতর।

‘ঈদ’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ আনন্দ। ‘ফিতর’ শব্দটিও আরবি, যার অর্থ রোজা ভাঙা। হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের ১ তারিখ প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব

১. মিসওয়াক করা, ২. গোসল করা, ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা, ৪. কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া, বিজোড় সংখ্যায় যেকোনো মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া উত্তম; খেজুর অতি উত্তম। ৫. ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া। এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা মুস্তাহাব। ৬. ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবির পড়া সুন্নত। ৭. সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। ৮. ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত। (দাতা ও গ্রহীতার সুবিধার্থে রমজানেও দেয়া যায়)। ৯. ঈদের দিন চেহারায় খুশির ভাব প্রকাশ করা এবং কারও সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলা মুস্তাহাব। ১০. আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা মুস্তাহাব।

ঈদের নামাজ দুই রাকাত আর তা ওয়াজিব। এতে আজান-ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব।

ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। এবার কভিড মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে আদায়ের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধহাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বাকি থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত; যেন নামাজের আগেই  সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। নামাজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে, আমি এ ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এ ইমাম সাহেবের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ‘ছানা’র পর তিন তাকবির। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির। এ তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুকতাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে। তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রত্যেক তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি এ তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারও পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শোনা নামাজির জন্য ওয়াজিব। জামাত না পেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ নামাজের কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত ইশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং অতিরিক্ত তাকবির বলবে না।

নারীদের জন্য পেছনে ভিন্ন উত্তম ব্যবস্থা থাকলে শুধু বৃদ্ধ নারীদের জন্য ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার অনুমতি রয়েছে। পরিচিত কারও সঙ্গে কিছুদিন বা অনেক দিন পর দেখা হলে উভয়ে ডান গলা মিলিয়ে মহব্বতের সঙ্গে একবার কোলাকুলি করা এবং ‘আল্লাহুম্মা যিদ মহাব্বাতি লিল্লাহি ওয়া রাসুলিহ’ পড়া সুন্নত। তবে ঈদের দিন জরুরি মনে করে কোলাকুলি করা বিদআত।

ঈদ আল্লাহর নিয়ামত। নিয়ামতের চাহিদা হলো, এর শুকরিয়া আদায় করা। এদিন তার কোনো অবাধ্যতা যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা সব মুসলিমের কর্তব্য।

মাওলানা ইসমাইল

মুহাদ্দিস

জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া

কারওয়ান বাজার, ঢাকা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..