প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঈদের আগেই প্রস্তুত হোক সাভারের ট্যানারিগুলো

 

রাজধানীর অদূরে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ঘিরে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। সে কৌতূহল সৃষ্টির কারণ একদিকে যেমন নীতিনির্ধারকরা ও সচেতন সমাজের অতিদূষণে আক্রান্ত ও মারাত্মক দূষণ সৃষ্টিকারী হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে চাপ প্রয়োগ, অন্যদিকে চিহ্নিত একশ্রেণির ট্যানারি মালিকের শিল্পনগরীতে যেতে অনীহা। খেয়াল করার বিষয়, নতুন স্থানে শিগগির ট্যানারি মালিকরা যেতে চাইছিলেন না এই বলে যে, সেখানকার সুবিধাদি পর্যাপ্ত নয়। এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যের নৈতিক ভিত্তি খানিকটা দুর্বল ছিল বিধায় যুক্তিগুলো হালে পানি পায়নি বলে মনে করেন কেউ কেউ। এখন দেখা যাচ্ছে, ট্যানারি মালিকদের শঙ্কা অমূলক ছিল না একেবারে। তাদের দুশ্চিন্তার কিছু বাস্তব ভিত্তি ছিল বটে। তার স্বাক্ষর রয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত সাভারের চামড়া শিল্পনগরী নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্বের শিরোনাম ‘কোরবানির চামড়ার জন্য প্রস্তুত নয় সাভারের ট্যানারিগুলো’। সেখানে আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, শিল্পনগরীটিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫৪টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে চালু। তাও নাকি অধিকাংশ ট্যানারি শুধু কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণের প্রথম ধাপে ওয়েট ব্লু উৎপাদন শুরু করতে পেরেছে; অধিকাংশেরই প্রক্রিয়ার মধ্যবর্তী ধাপ তথা ক্রাশড লেদার ও পণ্য তৈরির উপযোগী ফিনিশড লেদার প্রস্তুতের সুবিধাদি নেই। সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগের পরিসংখ্যান থেকেও চিত্রটি স্পষ্ট। জানা যায়, এখন পর্যন্ত মোট ১৫২টি ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে; তার মাঝে অবশ্য ডিমান্ড নোট পেয়েছে ১০৭টি। এদিকে আবেদনের পর এখনও গ্যাস সংযোগ পায়নি ১০৫টি ট্যানারি। আর ৮৯টি বসে আছে পানি সংযোগের আবেদন করে। সব মিলিয়ে পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়ার ক্ষমতা ১০টি ট্যানারিরও নেই বলে জানা যায়। এ অবস্থায় প্রথম ভাবনা হচ্ছে, যেসব ট্যানারি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গেল, তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় এগিয়ে থাকবে। দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, আসছে কোরবানি মৌসুমে ট্যানারিগুলো পর্যাপ্ত চামড়া সংগ্রহ করতে চাইবে তো? ইদানীং সুলভে লবণের প্রাপ্যতা নিয়েও নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে।

লক্ষ করার বিষয়, ট্যানারি শিল্পনগরীতে যারা আগে আসবে ও পরিকল্পিতভাবে আসবে, তারাই অধিক সুবিধা পাবেÑএটা স্বাভাবিক প্রণোদনা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) উচিত ছিল আরও সুশৃঙ্খলভাবে ট্যানারিগুলোকে হাজারীবাগ থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া। সেটি না করায় গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ প্রদানের ওপর চাপ পড়েছে একসঙ্গে। সেক্ষেত্রে খানিকটা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার রূঢ় বাস্তবতাটি অস্বীকার করা যায় না। ফলে তাদের উচিত হবে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ভূত জটিলতাগুলো দূর করা। এক্ষেত্রে প্রশাসনকেও খানিকটা নমনীয় অবস্থান নেওয়া উচিতÑঅন্তত আসন্ন কোরবানি ঈদের বিষয়টি মাথায় রেখে। তাদের নিশ্চয়ই জানা আছে, দেশে সারা বছর যে পরিমাণ চামড়ার জোগান হয়, এর ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে কোরবানির ঈদে। ফলে এ মৌসুমে যেন ট্যানারি মালিকদের কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে লক্ষ্যে এখন থেকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া শ্রেয়। ট্যানারি মালিকরা যদি চামড়া সংগ্রহে অনীহা দেখান, তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়বে দেশব্যাপী হাজার হাজার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর ওপর। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ যেন যথাযথভাবে সঠিক ট্যানারিকে দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রাখা বাঞ্ছনীয়। এমতাবস্থায় কেউ কাউকে দোষারোপ না করে প্রশাসন ও ট্যানারি ব্যবসায়ী একে অপরকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবেন এমনটাই প্রত্যাশা।