সম্পাদকীয়

ঈদের আগে মসলার দাম বৃদ্ধি কাম্য নয়

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে আদা-রসুনসহ বিভিন্ন মসলার দাম বাড়াতে বাধ্য হতে হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু যে কোনো উৎসব এলেই ভোক্তাদের পকেট কেটে নেওয়ার প্রবণতা আমরা দেখতে পায়। এটা সত্য যে চাহিদা বাড়ে, কিন্তু একই হারে বাজারে পণ্যের সরবরাহও বেড়ে যায়। তাহলে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভূমিকা এখানে কোথায় থাকল? এভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া ব্যবসায় নীতিতে কতখানি যৌক্তিক সেই প্রশ্ন এসে যায়; তাছাড়া বর্তমানে দেশের বাজারে মসলার দাম বেড়ে যাওয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতি ভোক্তা অধিকার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তলিয়ে দেখতে হবে।
বর্তমানে সারা দেশে বিশালসংখ্যক মানুষ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ত্রাণের ওপরেই তাদের জীবন চলছে। এই পরিস্থিতিতে ঘনিয়ে আসা ঈদ তাদের জীবনে স্বাভাবিক স্ফুর্তি বয়ে আনবে না। এখন যদি খাদ্যদ্রব্যের দাম এভাবে বৃদ্ধি পায় তবে তা তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। দেশের সিংহভাগ দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি যে কোনো উৎসবে আনুষঙ্গিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায়। তার ওপর যদি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তবে নাভিঃশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজের একটি প্রতিবেদনে বাজারের চিত্র উঠে এসেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে রসুনের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যাওয়া এবং গড়ে প্রতিটি দেশি মুরগি ও কক মুরগির দাম ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও আনুপাতিক হারে দাম কমেনি, যা দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের আমদানি-সংক্রান্ত যুক্তিকে খণ্ডন করে। একই সঙ্গে বন্যার কারণে মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার পরেও দাম না কমার ব্যাপারটি ব্যবসায়ীদের সততার জায়গাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মসলা জাতীয় পণ্যের দামের সম্পর্ক কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। নচেৎ অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের দুষ্টুকাণ্ড সাধারণ ভোক্তাদের জন্য উৎসবের সময় সামাজিকভাবে আর্থিক লজ্জায় কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং দুর্গত ভোক্তারা কঠিন সংকটে পড়ে যাবে। উল্লেখ্য, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও রয়েছে নিত্যদিনের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা। সেই জায়গা থেকে ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের এসব দাবি মানছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ বা ঘাটতি না থাকার বাস্তবচিত্র দিয়ে তারা ব্যবসায়ীদের দাবিকে বিভক্ত করছে।
তাই ক্রেতা সাধারণের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে বিক্রেতাদের অজুহাত যথাযথ মূল্যায়ন করে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..