দিনের খবর শেষ পাতা

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে কনটেইনারের স্তূপ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের আমদানি ও রপ্তানির বাণিজ্যের প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ হয়। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় বন্দর ব্যবহারকারী অংশীজনদের অংশগ্রহণ কম ছিল। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বন্দরে কনটেইনারের স্তূপ বেড়েছে তিন হাজার ৪১৪টি। আর বহির্নোঙরে খালাসযোগ্য ৩৫টি জাহাজ অলস বসেছিল, যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রস্তুত ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় আমদানি ও রপ্তানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অফিস ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্সসহ অন্যদের অংশগ্রহণ স্বাভাবিক সময়ে তুলনায় কম ছিল। ফলে কনটেইনার স্থানান্তর, সংরক্ষণ, ডেলিভারি এবং কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংসহ সব অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির ছিল। এতে এক দিনের ব্যবধানে বন্দরের কনটেইনারের স্তূপ বেড়েছে তিন হাজার ৪১৪টি।

ঈদের পরের দিন (১৫ মে) বন্দর ইয়ার্ডে মোট কনটেইনার ছিল ৩৬ হাজার ৯৯০টি, যা গতকাল বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৪০৪টিতে। অপরদিকে গত ১৫ মে কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ৪৮১টি। আর ঈদের দিন একটিও কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। এছাড়া গতকাল বহির্নোঙরে খালাসযোগ্য ৩৫টি জাহাজ অলস বসেছিল। এর মধ্যে কনটেইনার ছিল ১৭টি, সাধারণ কার্গো জাহাজ আটটি, তেলবাহী জাহাজ চারটি, ক্লিংকার জাহাজ চারটি ও ফুড গেইন দুটি। যদিও বন্দরের মেইন জেটি ও বিশেষায়িত জেটিগুলোয় মোট ১৭টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালু ছিল। একই সময়ে বহির্নোঙরের ২৫টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ঈদের ছুটিতেও চালু রেখেছিল দেশের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে। ঈদের দিন শুক্রবার (১৪ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কনটেইনার স্থানান্তর, সংরক্ষণ, ডেলিভারি এবং কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংসহ সব অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে। তবে সকালে বৃষ্টির কারণে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তবে পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত বেসরকারি অফডকগুলোয়ও নির্ধারিত আট ঘণ্টা ব্যতীত অন্যান্য সময়ে পর্যাপ্ত লোকবল ও ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া শুল্কায়নের জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রস্তুত রাখতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। একইভাবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অফিস ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্সসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন প্রস্তুত ছিল। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে বন্দরের নিরাপত্তা ও প্রতিটি কনটেইনারে পর্যাপ্ত লক সিস্টেম নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উপস্থিতি ছিল না। ঈদের দিন ও পরেরদিন খুব অল্পসংখ্যক কনটেইনার খালাস হয়েছিল। তবে গতকাল আগের চেয়েও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার খালাস হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে আবারও আগের মতো জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম গতিশীল হবে।

খাতুনগঞ্জ এলাকার আমদানিকারক আরাফাত রুবাই শেয়ার বিজকে বলেন, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। মাত্র ১০ শতাংশের মতো প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। তবে লেনদেন তেমন ছিল না। আশা রয়েছে সপ্তাহের শেষদিকে লেনদেন ভালো হবে। এজন্য পণ্য খালাস কম হওয়াটা স্বাভাবিক।

অপরদিকে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ চট্টগ্রাম অফিসের যুগ্ম সচিব আলতাফ উদ্দিন বলেন, ঈদের বন্ধের কারণে মূলত কনটেইনারের স্তূপ বেড়েছে বন্দরে। পাশাপাশি জাহাজ হ্যান্ডলিং কম হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠান গতকাল থেকে চালু হয়েছে। আশা করছি মঙ্গলবার থেকে পুরোপুরি সব প্রতিষ্ঠান চালু হবে। তখন কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়বে, স্বাভাবিক হয়ে আসবে বন্দরের কার্যক্রম।  

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ফোরামের সভাপতি ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, একদিকে করোনার প্রভাব, অন্যদিকে ঈদের ছুটি। আবার বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ। সব মিলিয়ে কনটেইনার খালাস হচ্ছে ধীরগতিতে। তবে ঈদের কারণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় মূলত কনটেইনার বেড়েছে বন্দরের। তবে ব্যবসায়ীদের উচিত দ্রুত কনটেনার ও পণ্য খালাস নেয়া। তা না হলে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বন্দর নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা সৃষ্টি হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..