প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

ঈদের পর বাজার ভালো হওয়ার ইঙ্গিত

রুবাইয়াত রিক্তা: এক দিন সংশোধনের পর পুঁজিবাজার ফের ইতিবাচক গতিতে ফিরেছে। লেনদেনের প্রথমার্ধে বিক্রির চাপ থাকলেও শেষার্ধে কেনার চাপ বেড়ে যায়। সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়লেও লেনদেন কিছুটা কমেছে। তবে ঈদের ছুটির আগে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় লেনদেন কমাটাই ছিল স্বাভাবিক। শেষ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারের ইতিবাচক গতি ঈদের পরে বাজার ভালো হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগের দিনে ব্যাংক ও আর্থিক খাত ইতিবাচক ছিল, কিন্তু বাকি খাতগুলোতে দরপতন হয়। গতকাল এ দুই খাতসহ প্রায় বৃহৎ সব খাতে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতগুলোও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল।
গতকাল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারের চাহিদা বাড়াতে দর বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে খাতটি। এ খাতে আগের দিনের তুলনায় পাঁচ শতাংশ লেনদেন বেড়েছে। দর বেড়েছে ৭৯ শতাংশ কোম্পানির। সাড়ে ২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার। কোম্পানিটির দর ছয় টাকা ৬০ পয়সা বেড়েছে। সাড়ে ১৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে খুলনা পাওয়ার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে।
দর বেড়েছে দুই টাকা ৫০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় পাঁচ টাকা ৩০ পয়সা। স্কয়ার ফার্মার প্রায় সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় দুই টাকা। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৬৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ৯ শতাংশ করে। ব্যাংক খাতে ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে একটির। বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল।
বস্ত্র খাতে ৭৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বিবিধ খাতে ৬৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দ্ইু টাকা ৬০ পয়সা। আর্থিক খাতে ৭১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বিমা খাতে বেড়েছে ৮৩ শতাংশ কোম্পানির দর। এ খাতের ঢাকা ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। দর বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশ। এছাড়া সম্পদ ব্যবস্থাপক বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল পরিচালিত ৯ মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ ১০ বছর করে বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ খবরে গতকাল মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ খাতের ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপতনে ছিল। আটটির দর অপরিবর্তিত এবং বাকিগুলোর দর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে ৯টি ফান্ড। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনের সোয়া ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৯০ পয়সা। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে আড়াই টাকা। একমাত্র সেবা ও আবাসন খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..