প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঈদে আসছে ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

আজ থেকে পাওয়া যাবে ৪০ শাখায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদে নতুন টাকা পেতে পছন্দ করে ছোট-বড় সবাই। বিশেষ করে ঈদ সালামিতে নতুন টাকা পেতে চায়। এজন্য ঈদ সালামি, ফিতরা বা দানের সময় অনেকে নতুন টাকা দিয়ে থাকেন। রোজার ঈদের মতোই কোরবানি ঈদেও নতুন নোট ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ থেকে পাওয়া যাবে নতুন এসব নোট। যে কেউ পুরোনো নোট দিয়ে ব্যাংক থেকে নতুন নোট বিনিময় করতে পারবেন। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার কারণে গত দুই বছর মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসে। সে সময়ের ঈদেও ছিল নিস্তব্ধতা। কেনাকাটা হয়নি বললেই চলে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সে কারণে আগে থেকেই দেখা যাচ্ছে ঈদানন্দ। আমদানি-রপ্তানি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বাজার, শপিংমল সবই চাঙ্গা হয়ে উঠছে। ফলে নগদ টাকারও চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া ঈদ এলে নতুন টাকার কদর বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে টাকার চাহিদা বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ঈদের আগে বিশেষ বুথে সাধারণ মানুষের কাছে নতুন নোট বিনিময় করত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর সেই প্রথা বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বছর করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় রোজার ঈদ থেকে আবারও নোট বিনিময় শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৯ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের কাউন্টারের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে নতুন নোট বিনিময় করা হবে। এছাড়া ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৪০টি শাখা থেকেও উল্লিখিত সময়ে ১০, ২০ ও ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় একটি প্যাকেট করে বিনিময় করা হবে। প্রতিটি শাখার জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

যেসব ব্যাংক ও শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাবে। তার মধ্যে রয়েছেÑএনসিসি ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, জনতা ব্যাংকের আব্দুল গণি রোড করপোরেট শাখা ও কচুক্ষেত করপোরেট শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব করপোরেট শাখা ও রামপুরা টিভি শাখা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার ও কাকরাইল শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা, উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা ও জাতীয় সংসদ ভবন শাখা, ঢাকা ব্যাংকের উত্তরা শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা ও শাহজালাল অ্যাভিনিউ শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা, রূপালী ব্যাংকের রাজারবাগ শাখা ও স্থানীয় কার্যালয় শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দক্ষিণখানের এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচার শাখা ও

 নিউমার্কেট শাখা, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের বনানী-১১ ও ধানমন্ডি শাখা, দি সিটি ব্যাংকের বেগম রোকেয়া সরণি শাখা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নন্দীপাড়া শাখা, প্রাইম ব্যাংকের এলিফেন্ট রোড শাখা, এবি ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখা ও বনানী শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা, এক্সিম ব্যাংকের শিমরাইল শাখা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, ইউসিবিএলর গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, উত্তরা ব্যাংকের সাভার শাখা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাভার শাখা ও ট্রাস্ট ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ শাখা।