Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 5:23 pm

ঈদে তিন দিনের বাড়তি ছুটি নয়

প্রকাশ: May 3, 2021 সময়- 11:27 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহামারির মধ্যে ঈদুল ফিতর ঘিরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের সরকারি তিন দিনের অতিরিক্ত ছুটি দিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানানোর সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদে সরকারি ছুটি তিন দিনের বাইরে কোনো ছুটি দেয়া হবে না। গার্মেন্ট ও অন্য প্রতিষ্ঠানও কোনো বন্ধ দিতে পারবে না। তিন দিনের বাইরে আর কোনো বন্ধ বা অতিরিক্ত ছুটি দিতে পারবে না।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এক দিন বা দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়বে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা সর্বাত্মক লকডাউন নামে পরিচিতি পায়।

এ বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতো বন্ধ আছে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে। লকডাউনে শপিং মলসহ অন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও ‘জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে’ গত ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিং মল খোলার অনুমতি দেয়া হয়। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে নানা শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।

অপরদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করছে না বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। মার্কেটে প্রবেশপথে রাখা নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক। আর তিন ফুট দূরে দূরে অবস্থান করার শর্ত উড়ে চলে গেছে বহু আগে। একজনের গায়ের ওপরে আরেকজন। মার্কেটগুলোয় এ চিত্র এখন দৈনন্দিন। তিনি বলেন, ‘তাই সরকার কঠোর অবস্থানে। রাজধানীসহ দেশের যে কোনো মার্কেটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা মাস্ক না পরলে মার্কেট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেবে।’ গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মার্কেটে আসা লোকজন এবং মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে কর্মরত বিক্রেতারা অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকেই অস্বস্তি ও গরমের অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। এতে সংক্রমিত হচ্ছে করোনা। বিষয়টি দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে জানানো হয়েছে। তিনি সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

লকডাউনের (বিধিনিষেধ) সময় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। নির্দেশনা অনুযায়ী, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘আজ থেকে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ম্যাজিস্ট্রেট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দেশের প্রত্যেকটি মার্কেট পরিদর্শন করবে। কোনো মার্কেটে এত লোক হয়তো কন্ট্রোল করা যাবে না, কিন্তু মাস্ক ছাড়া যদি বেশি লোকজন ঘোরাফেরা করে, প্রয়োজনে আমরা সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। ক্লিয়ারলি এটা বলে দেয়া হয়েছে।’