সারা বাংলা

ঈদে লম্বা ছুটিতেও পর্যটকের ভিড় নেই বান্দরবানে

পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি আসেন যে দেশে

এমএ শাহরিয়ার, বান্দরবান: ঈদের লম্বা ছুটিতেও পর্যটকের ভিড় নেই বান্দরবানের দর্শনীয় স্থানগুলোতে। রমজানের ঈদের পর কোরবানির ঈদের লম্বা ছুটিতেও আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূতি খ্যাত বান্দরবান জেলায়। বছরের দুটি বিশেষ দিন ঈদের লম্বা ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসা জমে না উঠায় হতাশ আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্ট হাউজসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জেলা বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, চিম্বুক, নীলগিরি, নীলদিগন্ত, শৈলপ্রপাত, রিজুক ঝরনা, কিংবদন্তি বগালেক, নাফাকুম, রেমাক্রী বড় পাথর, ডিম পাহাড় চূড়া দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও কোথাও পর্যটকের ভিড় নেই। পর্যটকদের বরণে সব আয়োজন করা হলেও আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্ট হাউজ এবং রেস্টুরেন্টগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। অন্যান্য বছরগুলোর মতো অগ্রিম রুম বুকিং ছিল না আবাসিক হোটেলগুলোতে। পর্যটকবাহী তিন শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ির অধিকাংশই স্টেশনে বসে ছিল। অলস সময় পার করেছেন গাড়ির চালকরা।
পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, নীলগিরিসহ আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো অনেকটা ফাঁকা ছিল। বৃষ্টির কারণে দর্শনীয় স্থানগুলোতে আশেপাশের স্থানীয় ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম।
বননিবাস রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আইয়ুব এবং হোটেল ফোর স্টারের স্বত্বাধিকারী রিপন চৌধুরী জানান, রোজার ঈদের কিছু রুম বুকিং হয়েছিল। কিন্তু কোরবানির ঈদে সেটিও হয়নি। বছরের দুটি ঈদেই এ বছর পর্যটকের আগমন ঘটেনি। অথচ অন্যান্য বছরগুলোতে ঈদের অনেক আগেই হোটেলের সবগুলো রুম বুকিং হয়ে যেত। হঠাৎ পর্যটন ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হয়েছে। এ লোকসান পুষিতে নিতে অনেকদিন লাগবে ব্যবসায়ীদের। পালকি গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ঈদের দিন কোনো রুম বুকিং হয়নি। ঈদের পরেরদিন মঙ্গলবার একটি রুম বুকিং হয়েছিল শুধু। ব্যবসা না থাকায় দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না।
আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে এ বছর। অথচ পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সারা বছর আশায় থাকে ঈদে জমে উঠবে ব্যবসা। কিন্তু বন্যা, পাহাড়ে আধিপাত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে অপহরণ-হত্যা, গুম-হত্যা গুজব এবং ডেঙ্গু আতঙ্কের বিরূপ প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। দুটি ঈদেই আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি এ অঞ্চলে। পর্যটন শিল্পের ধসের প্রভাব পড়বে স্থানীয় হাটবাজার এবং স্থানীয়দের মধ্যেও। পর্যটন স্পটগুলোতে কিছু পর্যটক ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার লোকজনদের সংখ্যায় বেশি।

সর্বশেষ..