পাঠকের চিঠি

ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের সতর্কতা

পাঠকের চিঠি

প্রতি বছরই ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। ঈদ ঘিরে সড়কে যানচলাচল বাড়ে, তাতে স্বভাবত দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছুটি এ সময় কাটাতে শহরে বসবাসকারী অনেকেই ছোটেন গ্রামের দিকে। ঈদুল আজহায় কোরবানির হাটমুখী পশুবোঝাই ট্রাকের কারণেও এ সড়কে বাড়তি চাপ থাকে। এটি নতুন নয়। প্রতি বছরই দুর্ঘটনা ঘটে এবং সাময়িকভাবে আমাদের টনক নড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারপরও শঙ্কামুক্ত হওয়ার উপায় নেই। গত ঈদুল ফিতরেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল অনেক মানুষ। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিও কম ছিল না। বেশ কিছু কারণে সড়ক-মহাসড়কে কোনোভাবেই নিয়মানুবর্তিতা আসছে না। ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ মাঠে নেমেছে র‌্যাব। ঈদের আগে ও পরে দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এক্সিট পয়েন্টে অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে যাত্রী নিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করে সংস্থাটি। এটি ভালো উদ্যোগ। এতে ঈদ শেষে শহরে ফেরাটাও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও কম ভোগান্তির হবে বলে ধারণা। ঈদ মৌসুমে সব মানুষের হাতেই কমবেশি নগদ অর্থের সমাগম ঘটে। ঈদের কেনাকাটা, কোরবানির পশু কেনাবেচা, পরিবহন প্রভৃতি কারণে অর্থনীতিতে অর্থসঞ্চালন বাড়ে। একইসঙ্গে বাড়ে অর্থ-সংক্রান্ত ঝুঁকি। লক্ষ করা গেছে, এ সময় ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে ছিনতাই বেড়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এটা প্রতিরোধে তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। ছিনতাইপ্রবণ এলাকাসহ বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল আর রেলস্টেশনগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। জাল টাকা রোধের প্রচেষ্টাও জোরদার থাকে যেন। নইলে অনেকেই হতে পারে বড় ক্ষতির শিকার।
দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বের সঙ্গে বাস-ট্রাকের ফিটনেস যাচাই, চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। বাড়তি যাত্রীর আশায় এ সময়ে বাসমালিকরা অদক্ষ হেলপারকেও ফিটনেসবিহীন যানে চালক হিসেবে বসিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিরুৎসাহিত করতে হবে। এমন অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে অনেকের ঈদযাত্রা পরিণত হতে পারে শোকযাত্রায়। বেশিরভাগ মানুষই এ সময়ে সপরিবারে বা একই এলাকার পরিচিতদের সঙ্গে একত্রে ঈদের ছুটি কাটাতে যায়। প্রায়ই দেখা যায়, দুর্ঘটনার শিকার হলে একটি পরিবার বা এলাকার বেশ কজন একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পুরো পরিবার বা একটি এলাকায় হƒদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারপরও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে ঈদে নির্বিঘেœ ঘরে ফেরা নিশ্চিত করাটা অসম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আকাক্সক্ষা থাকা স্বাভাবিক। অবশ্য কেবল স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামে যাওয়া হয় না। ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ছাড়া অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, যারা কেবল ঈদের সময় বাড়ি আসেন। তবে পরিবার ও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস বা ট্রেনের ছাদে চেপে বসাটা কোনোভাবেই সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। এমন অপরিণামদর্শী কাজ থেকে বিরত থাকলে দুর্ঘটনা কমবে।

আবুল কালাম আজাদ
মাস্টারবাড়ী, উত্তরখান
ঢাকা

সর্বশেষ..