প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীতে চড়া মসলার বাজার

প্রতিনিধি, রাজশাহী : কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীতে চড়া মসলার বাজার। এলাচের কেজি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। সেইসঙ্গে কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি জিরার দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে মসলার দাম সাধারণত প্রতিবছরই বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের আগে বেশ কিছু মসলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া, সবজিবাজার, উপশহর নিউমার্কেট ও লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজারের মসলা ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজশাহী সাহেববাজারের মুদি দোকানদার শাহীনুর ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে মসলার দাম বাড়ে। এবার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল মনে হচ্ছে। যে হারে অন্যান্য বছর দাম বাড়ে, এবার মাত্র কয়েকটি মসলায় বেড়েছে। ক্রেতারা কিছু অস্বস্তি প্রকাশ করলেও তারা বুঝে গেছেনÑসবকিছুর দাম বেড়েছে, সেক্ষেত্রে মসলার দামও বাড়তে পারে।

মসলার দাম জানতে চাইতে তিনি বলেন, ভারত থেকে এলাচ আসছে দেশে। তবে পরিমাণ কমেছে বলে জেনেছি। তাই কিছুটা দাম বেড়েছে। প্রতি কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। কেজিপ্রতি জিরার দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ভারতীয় প্যাকেটজাত জিরার দাম কেজিতে ২৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। এলাচ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। জিরার দাম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকায়। মৌরি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, তেজপাতা ১০০ টাকা, লবঙ্গ এক হাজার ৪০০ টাকা, কালো গোলমরিচ এক হাজার টাকা, জয়ত্রি ১০০ টাকা এবং জয়ফল কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহীর সাহেববাজারে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মানুষ মসলা কিনতে শুরু করেছেন। মসলার দোকানগুলোয় বেড়েছে ভিড়। এমনকি চালের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। মুদি দোকানদারদের এক মুহূর্ত হাত ফাঁকা নেই। খুচরা ও পাইকারি উভয় ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে এক দিনের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। তবে এর প্রভাব পড়েনি রাজশাহীর বাজারগুলোয়।

রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রাকিব হাসান বলেন, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪৫ টাকায়। ঈদের আগে ৫০ টাকা কেজি হতে পারে। ভারতীয় নাসিক জাতের লাল পেঁয়াজ মানুষ কিনতে চাচ্ছে না, তাই দোকানে রাখিনি। দেশি পেঁয়াজে গরুর মাংসের স্বাদ বেশি, তাই চাহিদাও বেশি। রসুন বিক্রি করছি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। আদার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছি। ভারত থেকে আমদানি করা বড় রসুন ১০০ আর দেশি ৮০ টাকা।

রাজশাহী নিউমার্কেটের মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, মসলা কিনতে শুরু করেছে মানুষ। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মসলা কিনলে অনেক পরিবারের কোরবানির মাংস খাওয়া শেষ হয়ে যায়। জিরা, দারচিনি, তেজপাতা, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম এসময় প্রতিবছরই বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম বাড়ার কারণ আমরা সেভাবে বলতে পারব না। কারণ বাংলাদেশে যে জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়, তার দাম বাড়ে। কিন্তু বছরে মসলাজাতীয় পণ্য এক থেকে দুবার আমদানি করা হয়। রাতারাতি তো আর পণ্য শেষ হয়ে যায় না। তাহলে কেন দাম বাড়ে, সেটা আপনারাও জানেন আর জনগণও জানে।