দিনের খবর শেষ পাতা

ঈদ ঘিরে ১১ দিনে সড়কে ২০৭ জনের প্রাণহানি

সমীক্ষার তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার ঈদুল আজহা ঘিরে ১১ দিনে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে একটি বেসরকারি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। মোট ১৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব মৃত্যুর পাশাপাশি ৩৮৯ জন আহত হয়েছেন বলে সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের তথ্যের ভিত্তিতে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে গতকাল সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১৪ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৭ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১৮ দশমিক ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৪ দিনে ১৮৭টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত হয়েছিল। গড়ে দিনে ১৬ দশমিক ৩৫ জন মারা গেছেন। ওই হিসেবে এবার প্রাণহানি বেড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে সড়ক পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন আইনের ‘বাধাহীন’ বাস্তবায়ন জরুরি। ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ২০৭ জনের মধ্যে ২৯ নারী ও ১৭ জন শিশু রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৭৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৭ জন মারা গেছেন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৮ দশমিক ১০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৪৩ জন পথচারী এবং ৩২ জন চালক ও সহকারী মারা গেছেন।

ঈদের আগে-পরে একই সময়ে চারটি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে দুজন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুটি রেলপথ দুর্ঘটনায় আরও দুজন মারা গেছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বিভাগভিত্তিক সড়ক দুর্ঘটনার যে চিত্র উঠে এসেছে এতে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দিক দিয়ে ২৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ দশমিক ২৯ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে পাঁচ দশমিক ৬৯ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে সিলেট বিভাগে দুই দশমিক ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এক দশমিক ৯৩ শতাংশ, রংপুর বিভাগে আট দশমিক ২২ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ দশমিত ৯২ শতাংশ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সংগঠনটির প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে।

প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

দুর্ঘটনা হ্রাসে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলোÑদক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা। সুপারিশে আরও রয়েছে রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..