সম্পাদকীয়

উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তির উদ্যোগ সফল হোক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপাচার্যদের সংগঠন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ ও বুয়েট। সিদ্ধান্তমতো এ বছর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। আর এ পরীক্ষা কার্যক্রমকে সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল দেশের সব দৈনিকেই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

 প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, এ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকেই প্রণীত পৃথক পৃথক প্রশ্নপত্রে অংশ নিতে হবে। একই শর্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সব বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ ব্যবস্থার আওতায় পড়বে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতি চালুর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আগ্রহ না দেখানোয় কার্যকর করা যাচ্ছিল না এ পদ্ধতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠায় দিন কাটে। বিশ্ব^বিদ্যালয়ে ভর্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা আলাদা ফরম বাবদ টাকা জমা থেকে শুরু করে, ভর্তি পবীক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে বেড়াতে হয়। একই দিনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা থাকলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। অল্প সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিও ভালো হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে আধুনিক সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদাহরণ ছিল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ফলে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আসন খালি থাকার বিষয়টি দেখা দেবে না। সময় ও অর্থ ব্যয়ও কমে আসবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শিক্ষার্থীদের ছুটে বেড়ানোর বিড়ম্বনা বন্ধ হবে, অভিভাবকরাও শান্তি পাবেন।

যদিও এক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। যেমন প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই প্রশ্নপত্র যেন কোনোভাবেই ফাঁস না হয় সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সফল করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আধুনিক ব্যবস্থা প্রয়োগে সফল হবেÑএটাই সবার প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..