মত-বিশ্লেষণ

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আশার আলো অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল

আবুল কাসেম হায়দার: আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি পড়ার মান ও গবেষণার দুর্বলতা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ লক্ষণীয়। শিক্ষার্থীরা কেমন শিক্ষা অর্জন করছে, সেটির বাস্তব উপযোগিতা, বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবস্থান, এমনকি পাঠ্যসূচির মান নিয়ে অনেকে সন্দিহান। এসব কারণে উচ্চশিক্ষাকে অর্থবহ, কর্মমুখী, উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল করা জরুরি। আমাদের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেগুলোতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষার মান, শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষকদের যোগ্যতা, অবকাঠামো প্রভৃতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এগুলোয় নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের মধ্যে আনতে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকেই দাবি ছিল। সাধারণ মানুষের দাবি ও অংশীজনদের চাহিদা বিবেচনায় নেয় সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ জাতীয় সংসদ কর্তৃক উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেশের সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠনের আইন প্রণীত হলো। আইনটি জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও পূর্ণকালীন সদস্যদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাও প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। বর্তমানে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৪৭টি। আর এ পর্যন্ত সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছে ১০৫টি। তাছাড়া কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে প্রচুর। এসব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯৯২ সালে প্রথম বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত হয়। বর্তমানে ১৯৯৮ সালে সংশোধনের পর ২০১০ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদ কর্তৃক আইনটি নতুন করে পাস করা হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিটি পৃথক পৃথক আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছিলাম দেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রয়োজন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। দেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সকল শিক্ষা কার্যক্রম নানা প্রশ্নের সম্মুখীন; মান নিয়ে সবার প্রশ্ন রয়েছে। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন। বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। সরকার বিশেষ উদ্যোগী হয়ে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন করেছে। আমরা এজন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

কাউন্সিল গঠন: ওই আইনের অধীনে একজন চেয়ারম্যান, চারজন পূর্ণকালীন সদস্য ও আটজন খণ্ডকালীন সদস্যের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠিত হবে। আইনের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২৫ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো অধ্যাপক, যিনি অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছর অতিবাহিত করেছেন, তিনি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য। এক্ষেত্রে বিদেশে শিক্ষকতা করলে বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলে ওই ২৫ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। এই ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন। বিদেশে ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনেক ভালো অধ্যাপক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকেও আমরা সেবা নিতে পারি। তাতে কাউন্সিলের গুণগত মান আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। চেয়ারম্যানের পদ চার বছরের জন্য এবং সদস্যদের জন্য দু’বছর মেয়াদ ঠিক করা হয়েছে।

সদস্যদের ক্ষেত্রেও ৮ ধারায় বলা হয়েছে, শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেসরকারি বা বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে এ সুযোগের আওতায় রাখা হয়নি। এক্ষেত্রে ধারাটি সংশোধন করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যাবলি: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের দায়িত্ব ও ক্ষমতা অনেক। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কনফিডেন্স সার্টিফিকেট বা ক্ষেত্রমত, অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট প্রদান, স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে। কাউন্সিলের উদ্দেশ্যসাধনের ১০ ধারায় তার ক্ষমতা ও কার্যক্রমের ১৩টি উপধারা রয়েছে।

অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এবং ওই প্রতিষ্ঠানের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম অ্যাক্রেডিট করা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক পৃথক অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন, কাউন্সিল কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদানের শর্তাবলি প্রণয়ন, কনফিডেন্স সার্টিফিকেট বাতিল করার ক্ষমতা প্রভৃতি সংরক্ষণ করে।

ওই আইনের লক্ষ্য পূরণের শর্তে প্রত্যেকটি আবেদনের বিপরীতে বিধিধারা-নির্ধারিত পদ্ধতিতে অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করা যাবে। কাউন্সিল কাজে সহায়তার জন্য ১৪ ধারা মোতাবেক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে পারবে। কাউন্সিলের ১৬ ধারা মোতাবেক কনফিডেন্স সার্টিফিকেট, অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেটের আবেদন প্রক্রিয়া আবেদন মঞ্জুর বা না-মঞ্জুর, ফি, সার্টিফিকেটের বৈধতা, সার্টিফিকেট প্রাপ্তির শর্ত, নিরীক্ষা ও অ্যাসেসমেন্ট এবং সার্টিফিকেট বাতিলসহ সব বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারণ করতে পারবে।

গত ১১ জানুয়ারি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল কর্তৃক একটি ওয়ার্কশপে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিরা অংশ নেন। ওয়ার্কশপে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ দুই সদস্য কাউন্সিল গঠন, কার্যক্রম, পরিধি, ক্ষমতা, ফি নির্ধারণ প্রভৃতি বিষয়ে তারা অবগত করেন। আলোচনার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো বিষয় অ্যাক্রেডিটেশন করতে সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা ফি প্রদান করতে হতে পারে। অবস্থা অনুযাযী ফি কমবেশি হতে পারে। ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য কাউন্সিলকে অনুরোধ করেন। তারা এক্ষেত্রে যাবতীয় খরচ সরকারকে বহন করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কোনো দান বা অনুদান প্রদান করে না, তাই অ্যাক্রেডিটেশন ফি কোনোভাবেই এক লাখ টাকার বেশি না করার পরামর্শ দেন তারা।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতি পাঁচ বছর পরপর তা আবার কাউন্সিল আবেদন মোতাবেক পুনর্বার প্রদান বা বাতিল করতে পারে।

কাউন্সিল কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট স্থগিত বা বাতিল বা প্রত্যাহার বা না-মঞ্জুর বা অন্য কোনো কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে, ওই সংক্ষুব্ধতার বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করতে পারবে। তা মীমাংসা করার জন্য কাউন্সিল একটি কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করে আবেদন প্রদান করবে।

সার্টিফিকেটের ধরন কেমন হবে: অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল কর্তৃক প্রস্তাবিত গ্রেডিং পদ্ধতির বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমপক্ষে তিনটি বিষয় অ্যাক্রেডিটেশন করার পর প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারবে। সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে সিজিপিএ’র ভিত্তিতে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিষয় কিউমিউলেটিভ গ্রেড পয়েন্টস অ্যাভারেজের (সিজিপিএ) মধ্যে করে সেটিকে অতি উত্তম (এক্সিলেন্ট) অর্থাৎ ‘এ++’ ধরা হবে। সিজিপিএ ৩.৫০ পেলে ‘গুড’ ধরা হবে। সিজিপিএ ৩.০০ পেলে তাকে অ্যাভারেজ (গড়পরতা) ধরা হবে। সিজিপিএ ৩.০০-এর চেয়ে কম করা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা বিষয় ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে ধরা হবে।

অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মান নিশ্চয়তা বিভাগকে (Internal Quality Assurance–IQSC) বেশ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয় আইকিউএসসিকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে হবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আইকিউএসসি নেই, সেগুলোকে শিগগির গঠন করতে হবে।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিষয় অ্যাক্রেডিটেশন করার ফলাফল উল্লিখিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে। এ পদ্ধতির সঙ্গে আমাদের দেশের ও আন্তর্জাতিক পদ্ধতির মিল রয়েছে।

কিছু পরামর্শ: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠনকে স্বাগত জানিয়ে আমরা আশা করছি, এই প্রতিষ্ঠান একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব পালন করবে, যে দায়িত্বটি আমাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ ধরনের একটি জাতীয় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সৎ ব্যক্তিবর্গ দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক তা চাচ্ছিলাম। উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষকের। নৈতিক, আদর্শিক ও বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষক না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। দেশে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও কলেজ শিক্ষকদের জন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। তাদের নিয়মিত ট্রেনিং দিয়ে ভালো শিক্ষক তৈরিতে সরকার সহযোগিতা করছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নেই। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে এর দারুণ অভাব রয়েছে।

নিয়োগকৃত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বেশ সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ ও উদ্যোগী। আশা করি তাদের আন্তরিকতায় প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে জাতীয় দায়িত্ব পালন করবে। ভবিষ্যতে যেসব ব্যক্তিকে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের অনুরোধ রইল। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কাউন্সিলকে গড়ে তোলা যাবে না। আমাদের দেশে সততার খুবই অভাব। দুর্নীতিতে সব প্রতিষ্ঠান প্রায় কালিমালিপ্ত। এক্ষেত্রে এই আদর্শিক নবগঠিত প্রতিষ্ঠানকে শুরু থেকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে।

যেসব সদস্যকে বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের ব্যাপারেও কাউন্সিলকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ছিল, চারিত্রিক যোগ্যতার অভাব ছিল এমন কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগ থেকে কাউন্সিলকে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়োগ দেওয়ার আগে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে সততা, যোগ্যতা ও চারিত্রিক যোগ্যতার যাচাই-বাছাই করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

কোনো রকমের দুর্নীতি ও অনিয়ম ওই প্রতিষ্ঠানে যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত একটি তদারকি টিম থাকা প্রয়োজন। চেয়ারম্যানকে প্রধান করে তিন সদস্যের টিম এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া মাত্র ওই টিম কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। ওই টিমকে শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দিতে হবে। তাতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে সবাই সতর্ক থাকবে; অন্যায়, অনিয়ম বা নিয়মবহির্ভূত কোনো কার্যক্রম করার চেষ্টা করবে না। সব রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব থেকে কাউন্সিলকে মুক্ত থাকতে হবে। কোনো ব্যাপারে দলীয়, রাজনৈতিক বা সরকারের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য শুরু থেকে কমিশনকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। নিরপেক্ষভাবে দেশের জন্য কাজ করার শপথ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিলাভের ঘোষণা দিয়েছে, তা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোয় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল রয়েছে। ভালো ভালো কাউন্সিলের আদর্শ, কর্মপদ্ধতি ও কার্যক্রমকে নিজেরা অনুকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কাউন্সিল যাতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জনের সক্ষমতা লাভ করতে পারে, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই তা একদিন না একদিন আমাদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করে দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভালো, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ে ভাল, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান সহজ হবে, তা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল কর্তৃক দিকনির্দেশনা পাবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান উন্নয়ন করা সম্ভব হলে ছাত্রছাত্রীদের বিদেশ যাওয়া কমে আসবে। অনেক বিদেশি ও আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনা করার জন্য আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। তাতে বিদেশি মুদ্রা খরচের পরিবর্তে বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাবে। অন্ধকার থেকে আশার আলোতে আসবে আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা।

সাবেক সহসভাপতি এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ বিজিএমইএ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..