প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উচ্চশিক্ষার মান উন্নত হবে কীভাবে

কামরুল হাসান মামুন: আমাদের সরকারগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে যা করে যাচ্ছে তা হলো শিক্ষার মানকে বিনষ্ট করা। তারা ভালো করেই জানে, উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হলে মানুষকে আর সাতপাঁচ বুঝিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সঠিকভাবে শিক্ষিতরা উন্নত জীবন পেতে নিয়ত যুদ্ধ করে। তারা জানে, ভালোভাবে বাঁচতে হলে একা ভালো থাকলে হবে না। গোটা সমাজকে ভালো রাখতে হবে। কিন্তু শিক্ষিত সমাজকে নিয়ে আশাবাদী হতে পারছি না। কারণ আমাদের শিক্ষার মান সামনের দিকে তো এগোচ্ছেই না, বরং পিছিয়ে যাচ্ছে।

একটি দেশের জনগণ যখন সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তখন কোনো সরকারই অন্যায় কাজগুলো নির্বিঘ্নে করতে পারে না। সত্যিকারের শিক্ষিতরা অন্যায় দেখলে চুপ থাকতে পারেন না। পৃথিবীর সব সরকারই অন্য কিছু না জানলেও এটা ভালো করে জানে। এজন্যই তো আরব দেশের রাজারা নানারকম ফন্দিফিকির করে জনগণকে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে। এটা আমাদের দেশেও করা হচ্ছে। করছে যে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় যখন দেশের শিক্ষিতরাও চুপ থাকেন। তারা চুপ; কারণ তাদের শিক্ষাটা সঠিক নয়। আরও প্রমাণ পাওয়া যায়, যখন দেখি সরকার প্রায় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তুলনামূলক অযোগ্য, চিন্তায় অন্ধ আর জ্ঞানে বন্ধ্যাদের দায়িত্ব দেয়।

আমাদের দেশে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা বলতে সাধারণ অর্থে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনকে ধরা হয়। এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ ধারণা। তা সত্তেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য সরকার এ ব্যবস্থাটুকুও করতে পেরেছে কী? স্কুল-কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারছে কী? বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একেকটি আসন যেন সোনার হরিণ! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার শুধু বিজ্ঞান অনুষদে এক হাজার ৭৬৫ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা দেন প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রতিযোগী ৫০ জনেরও বেশি। ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৮৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর মন ভেঙে খানখান। এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ জানে না। কোথায় পড়বেন তারা? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়? ওটা শুধু টাকার ব্যাপার নয়, মানের ব্যাপারও। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়? সেটার মান নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। এই যে লাখ লাখ ছেলেমেয়ে প্রতি বছর ভর্তিযোগ্য হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি কেউ ভাবছেন?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনেক কলেজ আছে, যেগুলো থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ কলেজগুলোর মান যদি ভালো হতো, তাহলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে হতাশ হতে হতো না। শুনেছি আমার গ্রামের কলেজ থেকে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মাত্র একজন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। সেখানেও অনার্স পড়ানো হয়; অনার্স লেভেলে তিন হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী আছেন। ভাবা যায়, যারা সঠিকভাবে উচ্চমাধ্যমিক পড়াতে পারেন না (যদি পারতেনই, তাহলে নিশ্চয়ই উচ্চমাধ্যমিকের ফল এতটা হতাশাজনক হতো না), তারা অনার্স-মাস্টার্স পড়াচ্ছেন! আসলে পড়াবেন কী? পড়ানোর জন্য শিক্ষকই তো নেই। শুধু অর্থের লোভে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করে যাচ্ছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আয়ের কথা শুনেছিলাম কিছুদিন আগে এক শিক্ষকের কাছে, বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। অথচ শিক্ষার মানোন্নয়নে এ টাকার কতটুকু তারা ব্যয় করে? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব তহবিল দিয়ে নিঃসন্দেহে দেশি-বিদেশি যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারত। শিক্ষকরা ভ্রাম্যমাণ বা অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন কলেজে বিশেষ বিশেষ কোর্স স্বল্প সময়ে এক্সটেনসিভ ক্লাস নিয়ে পড়াতে পারতেন। তাছাড়া সরকারের সহযোগিতা ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল দিয়ে নিঃসন্দেহে একটি ভালো টিভি চ্যানেল চালু করতে পারে। সে চ্যানেলে দিনরাত বিভিন্ন বিষয়ে অতিথি শিক্ষকরাও ক্লাস নিতে পারতেন। এতে শিক্ষকস্বল্পতাও কাটিয়ে ওঠা যেত। এছাড়া কলেজগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে কীভাবে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দেওয়া যায়, সে বিষয়েও ভাবা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে শিক্ষক নিয়োগে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের যে শর্ত রয়েছে, সেটা বাতিল করে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। এটি বরং ইতিবাচকই হবে। ছেলেমেয়েরা দেশের অভ্যন্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষা কীভাবে পাবে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা এখন জরুরি। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকরা এটা নিয়ে ভাবেন না। কারণ তাদের ছেলেমেয়েরা পড়ে ইংরেজি মাধ্যমে; তারপর চলে যায় বিদেশে। সমস্যা নিজেকে বা নিজের পরিবার ও আপনজনকে আক্রান্ত করলে তখনই কেবল তারা সংকট সমাধানে উদ্যোগী হয়। তাই বলব আগামী নির্বাচনে যেসব প্রার্থীর সন্তানসন্ততি বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বাস করছে, তাদের বয়কট করুন। অন্তত জাতীয় নির্বাচন অর্থাৎ এমপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা জরুরি মনে করি।

ফিরে আসি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কতটা সার্থকভাবে জ্ঞানচর্চা করতে পারছে, তা বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে কী মানের গবেষণা ও মানবসম্পদ বের হচ্ছে, তা থেকে। একটি ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী দল ক্ষমতায় থাকলে গবেষণায় বাজেট কম বরাদ্দ দেয়। এরা মানুষকে শিক্ষিত হতে দিতে ভয় পায়। সাম্প্রতিক ভারত তার উদাহরণ। কয়েক বছর ধরে তাদের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমছিল, তার প্রভাবও পড়েছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে। ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ের ২০০’র মধ্যে নেই। টাইমস হায়ার এডুকেশনের জরিপ অনুসারে, গত বছর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ছিল ২০১তম, যা এবার ২৫১তে নেমে এসেছে। এরকম আইআইটি দিল্লি ও আইআইটি কানপুর আগে ৪০১ ও ৫০০-এর ব্যান্ডে ছিল, যা এবার যথাক্রমে ৫০১ ও ৬০০-এর ব্যান্ডে নেমে এসেছে।

কিন্তু আমাদের এ দুরবস্থা কেন? চীন বা কোরিয়ার অবস্থা ঠিক তার উল্টো। প্রতি বছর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কারণ শিক্ষা খাতে তাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও তার সুষ্ঠু ব্যবহার রয়েছে। শিক্ষায় উন্নতির অন্যতম শর্ত হলো অর্থ বরাদ্দ। ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন করতে চাইলে তা হবে চূড়ান্ত বোকামি!

দেশে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়ানোর উপায়ও তৈরি করতে হবে। ক’দিন আগে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আমাদের ছাত্রদের স্নাতক পড়ার কেমন সুযোগ আছে, জানার চেষ্টা করেছিলাম। মোটামুটি বেশ সাড়া পেয়েছি। চীনে পড়াশোনা করছেন এমন অনেকেই ইনবক্সে যোগাযোগ করেন, এমনকি ফোন করেও তথ্য দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে চীন ও কোরিয়া হতে পারে আমাদের পড়াশোনার নতুন গন্তব্য। শিক্ষার মানের দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে। তাদের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের মান অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ড, প্রিন্সটন থেকে মোটেও কম নয়। সমস্যা শুধু ভাষা। কিন্তু স্নাতক লেভেলে পড়তে গেলে ওই বয়সের অনেক স্থানীয় ছেলেমেয়ে সহজে বন্ধু হয়ে যায়। ফলে ভাষা শেখার কাজটি সহজ হয়ে আসে। তাছাড়া একটি ভাষা শিখে ফেলাটাও বিরাট অর্জন।

চীনে অধ্যয়নরত অনেকের মতে, দেশটিতে এখন প্রচুর বিদেশি পড়তে যান, যার প্রায় ৫০ শতাংশই পাকিস্তানি। বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। লন্ডনে পিএইচডি করার সময়ও দেখেছি, পাকিস্তান সরকার ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এমওইউ করে তাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিএইচডি করতে পাঠাত। নিশ্চয়ই তারা বুঝে গেছে, কাজটি তারা চীনের সঙ্গে করতে পারে এবং এতে খরচ অনেক সাশ্রয় হবে।

চীনের সঙ্গে আমাদের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক একে কাজে লাগিয়ে সম্পর্কটা শিক্ষায় প্রলম্বিত করা যায়। হাফ ফান্ডিং, পার্শিয়াল ফান্ডিং, ফুল ফান্ডিং প্রভৃতি নানাভাবে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে পারি। বিষয়টাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ শিক্ষক পর্যন্ত এক্সটেন্ড করতে পারি, যাতে কলেজ শিক্ষকরাও পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে সে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করতে পারেন। চীন ও কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের ব্যাপকভিত্তিক শিক্ষা-সংক্রান্ত ডিপ্লোম্যাসি বাড়াতে হবে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে এভাবে হতাশায় ফেলে রাখা যায় না। যে অর্থ তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খাতে খরচ করে, একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এর চেয়ে ভালো মানের শিক্ষা লাভ করতে পারবে চীন-কোরিয়া থেকে। এর সঙ্গে যোগ হবে আন্তর্জাতিক পরিবেশে থেকে পড়াশোনা করা। এমন পরিবেশ পাওয়াও একটি প্রাপ্তি বটে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ তৈরি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে আমাদের। আমরা যখন একটি সায়েন্টিফিক আর্টিকেল প্রকাশের জন্য কোনো পিআর রিভিউড জার্নালে পাঠাই, তখন আর্টিকেলটির প্রকাশযোগ্যতা বিচার করতে দুই বা ততোধিক পর্যবেক্ষকের কাছে পাঠানো হয় মতামত জানানোর জন্য। কোনো পর্যবেক্ষক যখন একটি আর্টিকেল পান, তিনি প্রথম যে কাজটি করেন তা হলো আর্টিকেল লেখকের নাম দেখেন আর তাদের ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চান। আর্টিকেলের মান যাচাই করতে গিয়ে লেখকের রিসার্চ প্রোফাইল ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক প্রোফাইল খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে প্রেজুডিজম মারাত্মকভাবে কাজ করে। একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানীর কাজকে রিজেক্ট করা খুব কঠিন। আবার সাধারণ একজন বিজ্ঞানী বড় প্রতিষ্ঠান যেমন হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজ থেকে কোনো আর্টিকেল পাঠালে সেটাকে রিজেক্ট করা কঠিন। দেশ, এমনকি ধর্মও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।

তাই লেখকের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, দেশের নামএগুলোর ‘ইমপ্যাক্ট’ সাংঘাতিক। এসবের ইমপ্যাক্ট কীভাবে বাড়ানো যায়? ব্যক্তি যখন কোনো একটি ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করে, তখন তার নামই ফ্যাক্টর হয়ে যায়। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে যখন অনেক গবেষণাপত্র প্রতিবছর প্রকাশিত হয়, তখন প্রতিষ্ঠানের নামও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে যায়। তেমনি একটি দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে যদি অনেক ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ হতে থাকে, তখন দেশের নামও ফ্যাক্টর হয়ে যায়। আমাদের প্রতিবেশী দেশের অনেক বিজ্ঞানী আছেন, যাদের নাম একটি ফ্যাক্টর। একইভাবে ভারত বিশ্বের গবেষণা জগতে ইতোমধ্যে এক বিশাল ফ্যাক্টর হয়ে গেছে। সে বিচারে বাংলাদেশের না আছে ব্যক্তি, না আছে প্রতিষ্ঠান, না আছে কোনো সুনাম। সে অবস্থানে থেকে বাংলাদেশের একজন গবেষক দেশ থেকে কোনো আর্টিকেল জমা দিতে চাইলে তাকে যে কী পরিমাণ বাধা অতিক্রম করতে হয়, তা মাঝেমধ্যে টের পাই।

প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে সহজ ও প্রথম যে কাজটি করতে পারি, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ করা। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে বিশ্বের আরেক প্রান্তের কোনো প্রতিষ্ঠান ভিজিট করতেও সশরীরে আসতে হয় না। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট খুবই নিম্নমানের। এখানে যে কোনো বিভাগের ওয়েবসাইটে ঢুকে শিক্ষকদের গবেষণা প্রোফাইলে ক্লিক করলে প্রায় ৯৮ শতাংশই খালি পাওয়া যায়। এটা যে কত লজ্জাজনক, তা প্রকাশ করা অসম্ভব। ওপর মহল থেকে মাঝেমধ্যেই ওয়েবসাইট হালনাগাদ ও সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষকদের গবেষণা প্রোফাইল চেয়ে চিঠি আসে; কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেন না। কেনইবা করবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক নেতৃস্থানীয়, অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ের; যেমন ভিসি, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ, ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান তারা যদি আগে নিজেদের ওয়েব পেজটি সমৃদ্ধ করতেন, এরপর আমাদের কাছে চাইতেন; তাহলে এরকম চিঠিকে সবাই গুরুত্ব দিত। চেষ্টা করে দেখুন তো, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভিসি, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ, ডিন বা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের গবেষণা প্রোফাইল যদি দেখতে চান, কারও সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে কী? পাওয়ার কথাও নয়। তাদের সিংহভাগ তো শিক্ষাগত যোগ্যতার মাধ্যমে ওইসব পদে আসীন হননি। হয়েছেন দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে। এ চর্চা থেকে মুক্ত না হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কোনোদিন ভালো হবে না।

 

(নিবন্ধে প্রকাশিক মতামত লেখকের নিজস্ব। -বি. স)

অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়