বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান অসন্তোষজনক। মানসম্মত র্যাংকিংয়ে দেশের শিক্ষার মান প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে। এ নিয়ে প্রায় সবাই হতাশ। প্রাথমিক স্তরে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষক সংকট ও বেতনবৈষম্য এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকর জাতীয় কারিকুলাম মডেলের অভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতির ধীর বাস্তবায়ন-সব মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ-এর সঙ্গে বিশদ আলোচনা করা হয়। তিনি শিক্ষানীতি, বিদ্যমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। শেয়ার বিজের সঙ্গে তার আলাপচারিতা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রোদেলা রহমান
শেয়ার বিজ: বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকরা এখনও কম বেতন পান-এর মূল কারণ কী? সরকার কি বেতন কাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: প্রাথমিক শিক্ষকদের কম বেতন, এটা কোনো সাময়িক সমস্যা নয়; বরং স্বাধীনতার পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামোগতভাবে অবহেলিত। প্রাথমিক শিক্ষা দীর্ঘদিন সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, পেশাগত মর্যাদার জায়গা হিসেবে নয়।
শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতন কাঠামো উন্নয়নে বরাবরই ধীরগতি ছিল। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম হলেও বিশাল এই কর্মী বাহিনী পরিচালনায় রাষ্ট্রের ব্যয় অনেক। অথচ উন্নয়ন বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণে।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকই একটি জাতির ভিত্তি তৈরি করেন। তাই আমরা ধাপে ধাপে তাদের বেতন কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।
শেয়ার বিজ: আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা মুখস্থনির্ভর। জাপান বা কোরিয়ার মতো এথিক্যাল এডুকেশন কি বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতা এসেছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি থেকে। একটা সময় মনে করা হতো-শিশুরা যত দ্রুত পড়তে-লিখতে শিখবে, তত এগোবে। ফলে মূল্যবোধ, বিবেক, সামাজিক দায়িত্ব-এসবকে পাঠ্যপুস্তকে সীমিত অংশে রাখা হলেও বাস্তবে তা শেখার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোয় শিশুশিক্ষাকে মূলত চরিত্র গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। সেখানে শিশুদের দলগতভাবে কাজ করা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অভ্যাসের মধ্য দিয়েই বড় করে তোলা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনন্দিন আচরণ, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাকে তারা প্রাথমিক শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
বাংলাদেশের জন্য এথিক্যাল এডুকেশন অত্যন্ত জরুরি। আমরা এখন নতুন কারিকুলামে ‘এথিক্যাল লার্নিং’, ‘লাইফ স্কিলস’, ‘কমিউনিটি রেসপনসিবিলিটি’ যোগ করেছি। তবে এটাকে পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করলেই হবে না, স্কুলকে ‘নৈতিকতার অনুশীলন কেন্দ্র’ হতে হবে। আমরা সেদিকেই কাজ করছি।
শেয়ার বিজ: মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো কারিকুলাম মডেল নেই। এ কথাটা কি সত্যি?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: এক অর্থে এ কথা ঠিক। অতীতে আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্রিটিশ আমলের পরীক্ষাকেন্দ্রিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই চলেছে। সময়ের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আত্মপরিচয়ভিত্তিক একটি স্পষ্ট জাতীয় মডেল তৈরি হয়নি।
শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর বা ফিনল্যান্ড নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শ্রমবাজারের প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক জ্ঞান-সবকিছুকে সম্মিলিত করে নিজের কারিকুলাম বানিয়েছে। তারা শুধু বিদেশের মডেল কপি করেনি, বরং প্রাসঙ্গিক করেছে।
আমাদেরও ঠিক সেভাবে এগোতে হবে। আমরাও কাজ করছি একটি ‘বাংলাদেশ মডেল কারিকুলাম’ যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইতিহাস, নৈতিকতা, ভাষা-সবকিছু বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে সাজানো হবে।
শেয়ার বিজ: বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কারিকুলাম ফিউশন করে নিজের কারিকুলাম তৈরি করতে পারে?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: অবশ্যই পারে, তবে কপি-পেস্ট পদ্ধতিতে নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইনকুয়েরি বেইজড লার্নিংয়ের ওপর জোর দেয়, যুক্তরাজ্য কাঠামোগত বিষয়বস্তুর ওপর জোর দেয়। দুই মডেলের ভালো দিক একত্র করে আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই করে নিতে হবে।
আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, আবার দ্রুতই ইন্ডাস্ট্রিনির্ভর হচ্ছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা-এসব যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো নয়। তাই আমরা একটি প্রাসঙ্গিক ফিউশন তৈরি করতে চাই, যেখানে আমাদের শিশু বিদেশে ও দেশে অবদান রাখা এ দুই ভূমিকায়ই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
শেয়ার বিজ: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বিশ্বব্যাপী প্রয়োগ হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে কেন?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: বাংলাদেশে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন পিছিয়ে থাকার বিষয়টি শুধু নীতিগত নয়। এটি মূলত কাঠামোগত সক্ষমতার ঘাটতির প্রতিফলন। বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে ওবিইকে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে গেছে, সেখানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও মূলত লেকচার নোট, মুখস্থনির্ভর মূল্যায়ন এবং বছরে এক-দুবার পরীক্ষার পুরোনো সংস্কৃতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা শুরু হয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ঘাটতি থেকে। ওবিই মানে হলো-শিক্ষার্থী ঠিক কী শিখবে, কতটুকু শিখবে এবং কীভাবে তা প্রমাণ করবে, এগুলো স্পষ্টভাবে পরিকল্পনা করা। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষকই ওবিই-ভিত্তিক কোর্স পরিকল্পনা, ফলাফলের বিশ্লেষণ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ পাননি। ফলে ওবিই কাগজে থাকলেও বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোও পরিবর্তনে ধীর। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও মনে করে পুরোনো পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতিই ‘সেফ’। ফলে নতুন পদ্ধতিতে যেতে তারা অনীহা দেখায়, যদিও বিশ্বজুড়ে দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়ার দূরত্বও বড় বাধা। চাকরির বাজার কী ধরনের দক্ষতা চায়, সেটি স্পষ্টভাবে না জানলে ফলাফল নির্ধারণই অসম্পূর্ণ থাকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে শিল্প খাতের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষাপ্রণালি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইউজিসি এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ওবিইর মানদণ্ড অনুযায়ী স্বীকৃতি, নিরীক্ষা এবং র্যাংকিংয়ের আওতায় আনছে। লক্ষ্য একটাই-ওবিই যেন নীতি বা নথির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সত্যিকারের শিক্ষাদানে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নিতে এটাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
শেয়ার বিজ: বাংলাদেশের এইচএসসি কি সত্যিই উন্নত দেশগুলোর স্কুল লেভেলের সমতুল্য?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: হ্যাঁ। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক সনদকে বেশিরভাগ উন্নত দেশের স্কুল-সমাপ্তি স্তরের সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুল ডিপ্লোমা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের স্কুল লিভিং সার্টিফিকেটের সঙ্গে এইচএসসিকে সাধারণত সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে কাঠামোগত একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। বাংলাদেশের এইচএসসি ব্যবস্থা অত্যন্ত পরীক্ষানির্ভর, যেখানে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন মূলত লিখিত পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে। বিপরীতে অনেক উন্নত দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষার্থীর দক্ষতা, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফলে বিদেশে ভর্তি বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গ্রেড ভালো হলেও তাদের পোর্টফোলিও, যোগাযোগ দক্ষতা কিংবা ব্যবহারিক দক্ষতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষতাভিত্তিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেয়ার বিজ: বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কেন শুধুই অর্থসংস্থানের ওপর নির্ভরতা। অন্য দেশগুলোর মতো রিসার্চ কালচার নেই কেন?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছে একক উদ্যোক্তা বা পারিবারিক ট্রাস্টের উদ্যোগে। ফলে শুরুর দিকে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও টিকে থাকা; গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা তখন অগ্রাধিকার পায়নি।
এর পাশাপাশি গবেষণার জন্য সরকারি অনুদান দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত, আর শিল্প খাতের অংশগ্রহণও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিবর্তে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
এই বাস্তবতা পরিবর্তনে ইউজিসি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানান তিনি। এতে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের বিষয়টিও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেয়ার বিজ: অভিযোগ রয়েছে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় (আইকিউএসি) অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে অতিরিক্ত ক্লাস বা পেমেন্ট দাবি করে। এগুলো কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: আইকিউএসি (ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল) মোটেও এমন উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। এর প্রধান কাজ হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যাচাই, কোর্স উন্নয়ন, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
কিছু প্রতিষ্ঠানে হয়তো অতিরিক্ত চাপ, অযৌক্তিক ফি বা অপ্রয়োজনীয় ক্লাসের অভিযোগ এসেছে। আমরা এগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করছি।
ইউজিসির লক্ষ্য হলো-শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীর ওপর অযাচিত বোঝা চাপানো নয়। ভবিষ্যতে আইকিউএসিকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিপ্রধান করার নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
শেয়ার বিজ: গত ২০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কেন দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি? অনেক ছাত্র মনে করেন ইউজিসি ব্যর্থ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা গত দুই দশকে দ্রুত বেড়েছে; কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, যন্ত্রপাতি ও জনবল সে হারে বাড়েনি। ফলে সার্বিক উন্নতি ধীরগতিতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও আগে সীমিত ছিল। তবে বর্তমানে ‘উচ্চশিক্ষা সংস্কার আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে; যা ইউজিসিকে আরও ক্ষমতাশালী, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।
উন্নতি হয়নি এমন নয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দারুণ করেছে। তবে সার্বিকভাবে এখনও দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সেই পথে এগোচ্ছি।
শেয়ার বিজ: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ফলাফল কি চাকরির বাজারে যথাযথ মূল্য পাচ্ছে না-কেন?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: চাকরির বাজারে দেখা যাচ্ছে, স্নাতকদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, দলগত কাজের অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল জ্ঞানের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, তারা পাঠ্যবই অনুযায়ী শিক্ষা দিয়েছে। এই ব্যবধানই মূল সমস্যা।
সমস্যা সমাধানে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির মতো দেশে বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি শিল্পের সঙ্গে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণকালীন কাজ এবং ক্যাপস্টোন প্রজেক্টের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
বাংলাদেশেও আমরা একই মডেল চালু করতে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সৃজনশীল ও দক্ষ না হয়ে বাস্তব কর্মজীবনের জন্যও প্রস্তুত হয়ে ওঠে।
শেয়ার বিজ: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধনী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত, এটা কি উচ্চশিক্ষায় একক আধিপত্য তৈরি করছে?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছিল এমন সময়ে, যখন দেশের উচ্চশিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছিল; কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না। তখনই যাদের আর্থিক সক্ষমতা ছিল কিছু ব্যবসায়ী, শিল্পপতি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উচ্চশিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করেন। ফলে একপর্যায়ে উচ্চশিক্ষার একটি অংশ সীমিতসংখ্যক উদ্যোক্তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এটিকে ‘একক আধিপত্য’ বললে বিষয়টি একেবারে পূর্ণ সত্য হয় না।
শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান: আপনাকেও ধন্যবাদ।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post