সম্পাদকীয়

উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত হোক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

‘২৭ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা ইউজিসির’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা স্বভাবতই পাঠকের মনোযোগ কাড়বে। এখন ভর্তি মৌসুম। মহামারি কভিডের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। সব পরীক্ষার্থীকে অটোপাস দিতে আইন পাস করা হয়েছে। অথচ দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারিভাবে সুযোগ নেই এত শিক্ষার্থীর। উচ্চশিক্ষা লাভে আগ্রহী বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।

ঠিক এ সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২৭টিতে ভর্তির বিষয়ে সতর্কতা জারি করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সংস্থাটি বলছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয় নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে সনদ বিক্রি, অননুমোদিত প্রোগ্রাম চালানো প্রভৃতি। তাই এসব অনিয়ম সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। পরে কোনো সমস্যায় পড়লে এর দায় নেবে না ইউজিসি। যথাসময়ে সতর্ক করায় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। বছরের পর বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই ইউজিসির। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এটি যেমন সত্য, আবার মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কী সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা, সেটি সবাই জানে; জানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি সনদ দেয়াকেই মূল কাজ মনে করে, তাহলে শিক্ষা বাণিজ্যেই পর্যবসিত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও সন্তুষ্ট নয়। ভর্তির আগেই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং, শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেন। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সতর্ক ও সচেতন করবে ইউজিসি। তবে শুধু চিঠি পাঠানোর মধ্যেই দায়িত্ব সীমিত রাখলে হবে না; নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, আদৌ নেয়া হয়েছে কি না, তা তদারকি করতে হবে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করে ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট পূর্ণাঙ্গ নয়। আবার সন্নিবেশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ বা প্রোগ্রামে খণ্ডকালীন শিক্ষক পূর্ণকালীন শিক্ষকের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হবেন না। উদ্যোক্তারা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক। কিন্তু এও ঠিক, অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিলে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেধাবী ও অভিজ্ঞ শিক্ষক নিতে চায় না। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানও নি¤œমুখী। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে টাকার বিনিময়ে সনদপত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অনেকাংশই লঙ্ঘিত হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আকস্মিকভাবে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর  শিক্ষা ও প্রশাসনিক মান গ্রহণযোগ্য করতে ইউজিসি সরকারকে সময়োপযোগী  পরামর্শ দেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..