বিশ্ব বাণিজ্য

উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা কমিয়ে নিয়ে আসতে আগামী অক্টোবরের শুরুতে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওয়াশিংটনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ যখন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এ খবর সামনে এলো। খবর: রয়টার্স।
চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিনের মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর আলোচনায় বসতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর য়ি গ্যাংও টেলিফোন আলাপের সময় ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমিয়ে নিয়ে আসতে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারেও তারা একমত হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং বলেছেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষের মধ্যে ভালো একটি ফোনালাপ হয়েছে। অক্টোবরে ১৩তম যুক্তরাষ্ট্র-চীন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বাণিজ্যযুদ্ধ বৃদ্ধির যেকোনো ধরনের পদক্ষেপের বিরোধী চীন বলেও দাবি করেন জাও ফেং।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আগে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন। চীনের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের একজন কর্মকর্তা উভয় পক্ষের মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে। বাণিজ্য আলোচনা শুরুর এ খবরে গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোয় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
তবে নতুন আলোচনার এ খবর সামনে আসার আগেই এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। এর আগে চীনকে ‘চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশটির বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে বেইজিং।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুরু করে। সর্বশেষ বেশ কিছু চীনা পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

সর্বশেষ..