এসএমই

উচ্চ ফলনশীল বারি-৮ আম যশোরে

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল সুস্বাদু বারি-৮ জাতের আম চাষে যশোরের চাষিরা সফল হয়েছেন। অন্যান্য আমের চেয়ে এ জাতের আম রোগবালাইমুক্ত এবং দেরিতে এর ফলন হওয়ায় জেলার চাষিরা এখন এ আম চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।
২০০৯ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে উচ্চ ফলনশীল এ আমের জাতটিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর যশোর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা করার পর বারি-৮ আম নামকরণের মাধ্যমে রিলিজ দেওয়া হয়। দেশের অন্যান্য জাতের আমের চেয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের এ আমের জাতটির ফলন দেরিতে হয়, পাকেও দেরিতে। এছাড়া অন্যান্য জাতের আমের শুধু কলম থেকে চারা তৈরি করা হলেও এ জাতের আমের একটি বীজ থেকেই জš§ায় চারটি চারাগাছ। সেই গাছে উৎপাদিত আমের স্বাদ ও মান মাতৃগাছের মতোই। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় জেলার কৃষকরা এখন এ আমের চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।
আমচাষিরা বলেন, বারি-৮ আমগাছে রোপণের দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল আসে। তাছাড়া এ জাতের আমের রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম ও খেতে খুব সুস্বাদু এবং অন্যান্য জাতের আমের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি মিষ্টি।
যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি এলাকার আমচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, তিন বছর আগে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে বারি-৮ জাতের আমের চারা সংগ্রহ করি। এরপর চারাটি রোপণের পর মাত্র তিন বছরের মাথায় গাছে প্রচুর ফলন এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে যেসব জাতের আম রয়েছে তার মধ্যে বারি-৮ আম জাতটির বৈশিষ্ট্য আলাদা। এ আমের যেমন দেরিতে ফলন আসে, তেমনই পাকেও দেরিতে। তাছাড়া এ আম বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়। অন্যান্য আমের চেয়ে এটি খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি তুলনামূলকভাবে বেশি। আমের জাতটির দেরিতে ফলন আসায় বাজারে এর দামও ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে অধিকাংশ কৃষক এ আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
একই কথা বলেন, আমচাষি কেরামত আলী। তিনি বলেন, অন্যান্য আমের জাতে মুকুল আসার পর থেকে নানা ধরনের পোকার আক্রমণ লক্ষ করা গেলেও এ জাতের আম অনেকটা রোগবালাইমুক্ত। এ কারণে প্রচুর ফলন হয়। বর্তমানে যশোরের যেসব এলাকায় বারি-৮ জাতের আমের বাগান রয়েছে, সেসব জায়গায় প্রচুর ফলন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নতুন এ আমের জাতটি কৃষক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে অন্য ফসলের পাশাপাশি আম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অঞ্চলের বাগানগুলোর উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বাইরের বিভিন্ন দেশে। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আম চাষকে লাভজনক করতে নানা ধরনের জাত উদ্ভাবন করছে। বারি-৮ জাতের এ আমটি একটি উচ্চ ফলনশীল আম। লেটব্রাইট জাতের এ আম চাষে লাভবান হওয়ায় কৃষক বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, জাতটি যশোরাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবসসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মীর কামরুজ্জামান মনি

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..