প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জানুন

কেবল বয়স্ক ব্যক্তিরা নন, অল্পবয়সীরাও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়। শহরের মানুষ উচ্চ রক্তচাপে বেশি ভোগেন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে নানা রকম ভুল ধারণা রয়েছে। ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদÑএই হচ্ছে রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা। বয়স-পরিবেশভেদে একটু এদিক-ওদিক হলেও মোটামুটি এটিই হচ্ছে আদর্শ মান। সাধারণত টানা দুই দিন যদি কারও রক্তের চাপ ১৪০/৯০-এর বেশি থাকে, তাহলে বুঝতে হবে তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

কারণ: স্থূলতা এ রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বংশগত কারণেও এটি হয়ে থাকে। কায়িক পরিশ্রমহীন ও অলস জীবনযাপনকারীরা এতে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রভৃতি কারণেও উচ্চ রক্তচাপ হয়। অতিরিক্ত লবণ খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, কিংবা হরমোনজনিত রোগ আছে যাদের, তারাও আছেন ঝুঁকিতে।

কীভাবে বুঝবেন: মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা বা বুকের ব্যথাকে আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই। বমিভাব বা বমি হলে গ্যাসের ব্যথা মনে করে গুরুত্ব দিই না। রাতে ঘুম না হলে, অস্থির লাগলে বা মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেলে মনে করি কাজের চাপে এমনটি হচ্ছে। অথচ এসবই হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ। এ রকম হলে মোটেও হেলাফেলা করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে রক্তের চাপ মেপে দেখুন। সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের কাছে যান।

‘নীরব ঘাতক’ উচ্চ রক্তচাপ সুপ্ত অবস্থায় থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি করতে পারে। এটি হƒদ্?যন্ত্রের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। এতে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে চলে গেলে দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হার্ট ফেইলিওর বা কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে এ রোগ। শরীরের কোনো অঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়া বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর কারণে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে করণীয়: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। খাবারদাবারে পরিমিত হোন। শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে বেশি করে। পরিহার করুন কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার। অতিরিক্ত লবণ খাবেন না। নিয়মিত শরীরচর্চা করবেন।

ডা. মো. রাসুল আমিন

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট

সহযোগী অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা