সারা বাংলা

উচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতে ফের বেদখলে সওজের জমি

মেহেদী হাসান শুভ, মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা প্রায় দুই মাস আগে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বেদখলে চলে গেছে ওইসব জমি। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ দোকান।

সওজ সূত্র জানায়, মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি গোলচত্বর ঘিরে তিনটি মোড় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও মাদারীপুর-ফরিদপুর মহাসড়ক নামে দুটি সড়ক আছে। এ সড়ক দুটির দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে গড়ে উঠে কয়েকশ’ অবৈধ স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনা থাকায় যানবাহন চালাচলে বাধা সৃষ্টিসহ পথচারীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। মহাসড়কের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয় জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় পরিষদের সভায় একাধিকবার জানানো হলে সর্বশেষ গত ১০ জুলাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। তখন তিন শতাধিক অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোলচত্বরের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন টিনশেড দোকান। অনেকেই নতুন ঘর তুলতে ইট, বালি, সিমেন্ট এনে রেখেছেন। কেউবা নতুন ঘর নির্মাণ করছেন। মহাসড়কের গোলচত্বর ঘিরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও মাদারীপুর-ফরিদপুর মহাসড়কের ২০০ মিটার পর্যন্ত এ রকম অসংখ্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে এবং এখনও নির্মাণ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে স্থানীয় গিয়াস খান, সজীব খান ও ফারুক হাওলাদার নামে স্থানীয় তিনজন প্রভাবশালীর দুটি পোলট্রি দোকান ও একটি গরুর মাংসের দোকান রয়েছে। মহাসড়কের দুই পাশে আশরাফ খান, তোয়েব খান ও গিয়াস খানের ১৫টি ফলের দোকান, লোকাল ও পরিবহন বাসের একাধিক কাউন্টার। আলহাজ আবদুর রব খান আমেনা সৈয়দা সুফিয়া আলী ইবতেয়ায়ী মাদরাসার নামে রব খানের নির্মাণাধীন দোকানসহ রয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব অবৈধ স্থাপনা উঠানোর নৈপথ্যে মস্তফাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফ খানসহ তিন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মস্তফাপুর গোলচত্বরের চারপাশ ঘিরে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে ভাড়া তোলেন। এমনকি দোকানগুলো ভাড়া দেওয়ার আগে প্রতিটি দোকানের জন্য অগ্রিম দেড় থেকে দুই লাখ টাকাও নেওয়া হয়।

পোলট্রি দোকানি কামরুল মোল্লা জানান, সরকার আগেও একবার এখানে ভেঙেছে। এরপর আবার দোকান তুলে দিছে ফারুক। এখন তাকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা ভাড়া দেই। সরকার যদি এখন আবার ভেঙে দেয় তাহলে তাদের কোনো অসুবিধা নেই।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে মস্তফাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ খান জানান, তার আগে ঘর ছিল, যা সড়ক বিভাগের লোকজন ভেঙে ফেলেছে। এখন আর নতুন করে কোনো স্থাপনা সওজের জমিতে নেই। তবে অনেকে অস্থায়ী ঘর তুলেছে যা তার নয়। আর তিনি কোনো টাকা-পয়সা তুলছেন না। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা মিথ্যে বলেছেন।

এ বিষয় মাদারীপুরের ডিসি ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, মস্তফাপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, প্রয়োজনে আবারও চালানো হবে। তবে জমি দখলে রাখতে কোনো আগ্রহ নেই সওজের। তারা উচ্ছেদের পর প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উচ্ছেদের জন্য সড়ক বিভাগ আবার সহযোগিতা চাইলে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মাদারীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, সওজের জমিতে যারা নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ..