প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উত্তরে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক; পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উত্তরে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তবে নীলফামারীতে পানি কমতে থাকায় দুর্গতরা ফিরছেন বাড়ি। বগুড়া প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি শরীফ আহমদ ইন্না, নীলফামারী প্রতিনিধি তৈয়ব আলী সরকার জানাচ্ছেন বিস্তারিত:

বগুড়া : যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। যমুনার পানি বেড়ে গতকাল বুধবার বিকালে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অনেক এলাকায় খাদ্য ও পানীয়জলের অভাব দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। বন্যাকবলিত মানুষ ছুটছেন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নিরাপদ আশ্রয়ে।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তিন উপজেলার ৯২ গ্রামের প্রায় ৭২ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সারিয়াকান্দিতে নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে আরও সাতটি এবং সোনাতলার ১০টি গ্রাম। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিয়কান্দি উপজেলা। এ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৯ ইউনিয়নের ১১ হাজার ২২০ পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। সারিয়াকান্দি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে সবচেয়ে বেশি বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়িঘর ছেড়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন সারিয়াকান্দির কুতুবপুরের রওশন বেগম। পরিবারের ৯ সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে একই সঙ্গে বাঁধের ওপর থাকছেন গাদাগাদি করে। সবচেয়ে বড় সমস্যায় রয়েছেন পশুখাদ্য না থাকায়। তার অভিযোগ, ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল। তাই রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। ধলিরকান্দি এলাকার আশাদুলের অবস্থাও একই। ১০ দিন আগে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, জেলার তিন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৯০ টন চাল ও আড়ই লাখ টাকা বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ কারণে সিরাজগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা এ কথা জানান।

সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের ১৯৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪ হাজার ৮১৬ পরিবার ও ৬১ হাজার ১৮৬ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ৮৪ টন চাল ও তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত সাত দিনে কাজিপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার মিল্ক ভিটার খামারিরা গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে ৮৪ টন চাল ও তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নীলফামারী : নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি গতকাল বুধবার বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যার পানি কমতে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে পানিবন্দি মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের পানি পরিমাপক উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ জানান, গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার, ৯টায় ১৩ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের গৃহিণী মোহসেনা বেগম জানান, নদীর পানি বাড়ায় গত রোববার রাতে রান্না করা সম্ভব হয়নি। সোমবার তিন সন্তানকে নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটিয়েছেন। তবে বুধবার অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বন্যার পানি কমতে থাকায় চর ও চরগ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, পূর্বছাতনাই গ্রামের এক হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। পরিবারগুলোয় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকার মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, তিস্তার পানি কমতে থাকায় মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।