প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বেড়েছে ১০ শতাংশ

 

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশকে বাণিজ্যিকভাবে চাপে রাখতে বেইজিংয়ের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান এবং নির্ধারিত পণ্যে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে। খবর আরব নিউজ।

তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জানুয়ারি-জুন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে চীনের মোট বাণিজ্য হয়েছে দুই দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় রফতানি হয়েছে এক দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৯ দশমিক সাত শতাংশ বেশি। তবে ওই সময় উত্তর কোরিয়া থেকে আমদানি ১৩ দশমিক দুই শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য বৃদ্ধিতে চীনের সমালোচনা করেছেন। তবে চীন বলছে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা পণ্যের বাইরেই স্বাভাবিক বাণিজ্য হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তবে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বস্ত্রপণ্য ও অন্য গতানুগতিক পণ্য বাণিজ্য বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুল্ক কর্মকর্তা হুয়াং সংপিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্য হয়েছে। এতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা পণ্য ছিল না।

সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়; এর প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ।

চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার লাভজনক কয়লা বাণিজ্যও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে পড়ে। আরোপিত বাণিজ্যিক এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছে চীন। উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লার সব ধরনের আমদানি স্থগিত করে দেশটি। শুধু কয়লাই নয়, একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় তামা, নিকেল, রুপা, দস্তা ও মূর্তিবাণিজ্য।

উত্তর কোরিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত চীনের সঙ্গে এ নিষেধাজ্ঞায় ওই পণ্যগুলো বিক্রির জন্য বিকল্প বাজার সন্ধান করতে হবে উত্তর কোরিয়াকে। তবে এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে কয়লা বাণিজ্যে। চীন কয়লা না নিলে দেশটির মোট কয়লা উৎপাদনের ৬০ শতাংশ বন্ধ করে দিতে হবে।

চীন অবশ্য এর আগে বেশ কয়েকবার উত্তর কোরিয়াকে শান্ত থাকতে বলেছিল। কিন্তু তারপরও সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে তা প্রচার করে উত্তর কোরিয়া। এর পনিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের এ নিষেধাজ্ঞা বেশ সহজেই মেনে নেয় চীন।

উল্লেখ্য, পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ। এরপর বিভিন্ন সময় সে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। নিষেধাজ্ঞার পরিধিও বাড়ে সময় সময়।