প্রচ্ছদ শেষ পাতা

উদাসীন কর্তৃপক্ষ ভোগান্তিতে গুলশানবাসী

সড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলশানে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যথাযথ ভূমিকা না থাকায় অভিজাত ওই এলাকাটিতে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং বন্ধ হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, ‘গুলশান-১-এ অবস্থিত পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত অ্যাভিনিউ রোডে প্রতিনিয়ত যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হচ্ছে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মোটরসাইকেল। মূল সড়কের মতোই যানজট বাড়ছে অ্যাভিনিউ রোডে। আর এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক বাড়ির সামনের দেয়ালে বড় করে পার্কিং নিষেধ লেখা থাকলেও তা না মেনেই পার্ক করছেন চালকরা। ট্রাফিক পুলিশের সাময়িক নজরদারি থাকলেও তা তোয়াক্কা করছেন না চালকরা।’
স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা না থাকা, ট্রাফিক সদস্যদের প্রশিক্ষণের অভাব, উল্টো পথে চলা ও আইন না মানা, ফুটপাত দখল করে কার পার্কিং করাই যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
তারা বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনে একাধিকবার নালিশ করা হলেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রায় সময়ই হাঁটার রাস্তা বন্ধ করে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মোটরসাইকেল পার্ক করা হচ্ছে। যথাযথ শাস্তি না দেওয়াই এভাবেই দিনের পর দিন অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক হচ্ছে। এতে অ্যাভিনিউ রোডসহ মেইন রোডে যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘যত্রযত্র অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধে আমরা স্মার্ট পার্কিংয়ের জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করছি। যে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধসহ নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ে সহযোগিতা করবে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সেবাটি প্রদানে সক্ষম হবো। এটি হয়ে গেলে তখন আর এই অসুবিধাগুলো থাকবে না। তবে আমরা এখন অবৈধ পার্কিংয়ে তৎপর, যেখানে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং হচ্ছে দেখা মাত্রই জরিমানা ও মামলা দেওয়া হচ্ছে।’
রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগের। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অবৈধ গাড়ি পার্কিং করলে তারা মামলা প্রদান ও জরিমানা আদায় করেন, বাকি দায়িত্ব সরকারের। আর আইন বলছে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ রাস্তার মালিকানা সিটি করপোরেশনের। কিন্তু সিটি করপোরেশন ন্যূনতম সেবা প্রদান ছাড়াই রাস্তার ওপর পার্কিং করা গাড়ি থেকে স্লিপ দিয়ে টাকা আদায় করছে। কিন্তু স্বীকার করছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটলে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ৫০ শতাংশ কমে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা ৩০ শতাংশ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের প্রবণতা ৫০ শতাংশ কমে। এ জন্য প্রয়োজন হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত স্থান। কিন্তু ৪৫ শতাংশ সড়কে অবৈধভাবে কার ও মোটরবাইক পার্কিং হওয়ায় হাঁটা যায় না। রাজধানীতেই এর প্রবণতা অনেক বেশি।
নগর বিশেষজ্ঞ বুয়েট অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান বলেন, ‘রাজধানীতে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল এ দুটিকেই যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। গাড়ি পার্কিংয়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান না করাই এর প্রবণতা বাড়ছে। রাজধানীতে অবৈধ পার্কিং দখলমুক্ত করার জন্য সিটি করপোরেশন পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে তার কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে না। শুধু ফ্লাইওভার নির্মাণ বা অন্য পদক্ষেপ নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আমাদের যে রাস্তাটুকু আছে তার যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এখনই এ সমস্যা সমাধান করা না গেলে এটি আরও বাড়বে।’

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..