সম্পাদকীয়

উদ্বৃত্ত থাকাবস্থায় চাল আমদানি অগ্রহণযোগ্য

সব মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে খাদ্যনিরাপত্তার উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগণের জন্য খাদ্যসহায়তা প্রদান, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যসরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি বাড়ানোর যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা নিতে হয়। খাদ্যপণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ খাদ্যশস্যের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই মূল দায়িত্ব।

‘নভেম্বর শেষে দেশে সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে’ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বরাত দিয়ে গতকাল শেয়ার বিজে এ খবর ছাপা হয়েছে। চালের মজুত নিয়ে রোববার এক ভার্চুয়াল সেমিনারে নিজস্ব জরিপ গবেষণার বরাতে এ তথ্য জানান ব্রি মহাপরিচালক।

বলা হয়েছে, চালের উৎপাদন গত বছরের চেয়ে প্রায় তিন দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বোরো ও আমন মৌসুমের উদ্বৃত্ত ধরে জুন পর্যন্ত দেশে দুই কোটি তিন লাখ ১০ হাজার টন চালের মজুত ছিল। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর পরেও পাঁচ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টন চাল দেশের অভ্যন্তরে উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫০ কোটি মানুষের চাহিদা মেটানোর পরেও ৩৬-৭৮ দিনের চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।

ব্রি’র পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশে আপাতত খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা থাকবে না। কিন্তু সরকারি সংস্থার এ তথ্য আমাদের ভরসা জোগায় না। সরকারি সংস্থার পূর্বাভাস সত্ত্বেও আমাদের খাদ্যপণ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

এবার বোরো ধান চাষ লাভজনক ছিল। ধানকাটা  মৌসুমে কাঁচা ধানের দাম গত বছরের চেয়ে বেশি থাকায় কৃষকের মোট আয় ১৬ দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে। বোরো ধান চাষিরা বলছেন, এ বছর তারা গড়ে বিঘাপ্রতি এক হাজার ৬০৪ টাকা লাভ করেছেন যেখানে গত বছর তাদের লোকসান গুনতে হয়েছিল। একদিকে ভবিষ্যৎ খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা অন্যদিকে ধানের দাম বেশি থাকায় অল্প ধান বেচেই কৃষক কৃষি ও পরিবারের খরচ বহন করতে পেরেছেন। ধান-চাল মজুতের প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকলেও সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হয়নি। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে অধিক লাভের আশায় একধরনের নতুন বিনিয়োগকারী যোগ হয়েছেন, যারা এ সময় ধানে বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করছেন। চাল মজুতের বেলায় দেখা যায় যে, ভোক্তাশ্রেণি ভবিষ্যৎ খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা থেকে আতঙ্কিত হয়ে বেশি পরিমাণ চাল মজুত করেছেন। সার্বিকভাবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ধান-চাল মজুতের প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকলেও সরবরাহ চেইন বিঘিœত হয়নি। বন্যা প্রলম্বিত হলে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..