বিশ্ব বাণিজ্য

উদ্বেগের মধ্যেই ফের বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান উদ্বেগের মধ্যে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ দুটি এমন একসময় এ আলোচনায় বসছে, যখন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। এবার সমাধানে না পৌঁছালে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বেগবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আলোচনায় বসার খবরে বৃহস্পতিবারের লেনদেনে মিশ্র অবস্থা ছিল বিশ্ব পুঁজিবাজার। খবর: রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে প্রায় ১৫ মাস। এর মধ্যে একাধিকবার আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি। গত জুলাইয়ে সর্বশেষ আলোচনা হলেও সেখানে কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা উভয় দেশের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতা বিশেষত সর্বশেষ ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনে পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা চেষ্টা করবেন। তবে তাদের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহেই চীনের ২৮টি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরও ভিসা প্রাপ্তিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ ধরনের পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যদি ফের শুরু হওয়া এ আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বেগবান হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো সমাধানের পথ তৈরি না হলে চীনের প্রায় সব রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক শুল্ক কার্যকর হবে। যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক কাজ করা শুরু হয়েছে। এতে তাদের বাণিজ্য নীতির নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক পছন্দ করে না এবং আরোপ করতেও চায় না। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চীনের মনোযোগ ফেরাতে শুল্কারোপ করতে হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আলোচনা শুরু একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সুযোগ বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নতুন করে বাণিজ্য আলোচনার প্রাক্কালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বের পুঁজিবাজার ছিল নিম্নমুখী। বিশেষ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপির সূচকের পতন হয়, যদিও পরে ঊর্ধ্বমুখী হয়। এছাড়া জাপানের নিক্কেই এর লেনদেনেও ছিল উত্থান-পতন। সূচকের নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু হলেও পরে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে হ্যাং সেং।

সর্বশেষ..