দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

উদ্বোধনের আগে নির্মাণব্যয় বাড়ছে ৮৫ শতাংশ

চিলাহাটি-হলিদাবাড়ী রেলপথ

ইসমাইল আলী: ৫৫ বছরের বেশি সময় পর ভারতের শিলিগুড়ির সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। এজন্য নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশন থেকে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। এটি যুক্ত হয়েছে ভারতীয় রেলপথের সঙ্গে, যা যাবে দেশটির হলিদাবাড়ী পর্যন্ত। এ রুট দিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা-শিলিগুড়ি রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হবে। অথচ এখন রেলপথটির নির্মাণব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্মাণকাজে নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তি ও জমি অধিগ্রহণ দেখিয়ে এ ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় বাড়বে ৮৫ শতাংশের বেশি।

সূত্রমতে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন চিলাহাটি হয়ে জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবে। এরপর তা জলপাইগুড়ি জংশন হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দ্বিতীয় বড় শহর শিলিগুড়িতে যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামনে সরাসরি শিলিগুড়ি হয়ে আসামসহ ভারতের ওই অঞ্চলের সঙ্গে আবার রেল যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এজন্য ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার চিলাহাটি থেকে চিলাহাটি সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল রেলপথ ছয় দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার আর দুই দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইন। অপরদিকে ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ছয় দশমিক পাঁচ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ করেছে ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ৮ অক্টোবর ভারতীয় ইঞ্জিন ও ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশের ইঞ্জিন দিয়ে নবনির্মিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোও হয়েছে। আর ১৪ নভেম্বর রেলপথসহ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তিনি ঘোষণা করেন আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ঢাকা-শিলিগুড়ি ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন।

যদিও রেলওয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নতুন হিসাবে নির্মাণব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ রেলপথটি নির্মাণব্যয় বাড়ছে ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা ৮৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।

ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় তিন একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এ খাতে কোনো ব্যয় ধরা হয়নি। দ্বিতীয়ত, চিলাহাটি স্টেশন থেকে তিনটি লুপ লাইন নির্মাণের পরিবর্তে চারটি লুপ লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয়ত, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক স্টেশনের আদলে দেড় হাজার বর্গমিটারের একটি স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চতুর্থত, দুটি মাইনর ব্রিজ নতুন করে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং একটি আইল্যান্ড প্ল্যাটফর্ম নতুনভাবে নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এর বাইরে বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সংস্থান রাখা হয়েছে। ওয়াশপিট ও রেইজড প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূল প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ছিল না। সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পটির সম্ভাব্য সমাপ্তির সময়কাল বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম শেয়ার বিজকে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা-শিলিগুড়ি রুটে পণ্যবাহী ট্রেন উদ্বোধন করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে ভারত থেকে যেসব পণ্যবাহী ট্রেন আসবে সেগুলো ৪২ গাড়ির। ভবিষ্যতে ৫০ গাড়ির পণ্যবাহী ট্রেনও আসবে। যদিও এজন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নেই, তবে নতুন লুপ লাইনটি না হলে কম পরিমাণ পণ্য নিয়ে ট্রেন চালাতে হবে। তাই নতুন আরেকটি লুপ লাইন নির্মাণ করতে হচ্ছে বেশি জায়গা নিয়ে। আর এ লুপ লাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এ রুটে শুধু কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কোনো স্টেশন বিল্ডিং ছিল না। তবে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যাংকিং সুবিধাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা রাখার জন্য স্টেশন বিল্ডিং করা হবে। এছাড়া এক দিকে প্ল্যাটফর্ম ছিল। তবে যদি দুই দিক থেকে আপ ও ডাউন দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন আসে, তাহলে একটি ট্রেন থেকে নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য আরেকটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করতে হবে। এতে একটি ফুটওভার ব্রিজও লাগবে। আর ওয়াশপিটও কেন্দ্রীয়ভাবে নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতের হলদিবাড়ী ও সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের চিলাহাটির মধ্যে রেল সংযোগ ছিল। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগী হয়। এরই অংশ হিসেবে এ রুটটি আবার চালু করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..