বাণিজ্য সংবাদ

উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিশ্রুতি পূরণ নিয়ে উন্নত দেশগুলোর সমালোচনা করে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়, তা কখনও পূরণ করে না। তাই বলে তো হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। যা কিছু করতে হবে এ কাদামাটি থেকেই করতে হবে। জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের (জিপিইডিসি) সম্মেলনে অংশ নিয়ে দেশে ফিরে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা কারও কাছে দান-খয়রাত চাই না। আমাদের কাজের সুযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ দিলেই হবে। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় এরই মধ্যে আমরা নিজেরাই একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। এসডিজির বিষয়টি বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করায় সেটির বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক অর্থ দরকার। জাতিসংঘ অনেক উৎসাহ দেয়, কিন্তু টাকা দেয় না। এটি আমাদের অর্থ দিয়েই বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামীমা নারগিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘের এ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। হাঙ্গেরি আমাদের পানি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে চেয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমি তাদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। মন্ত্রী জানান, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে, রাজস্ব আদায় বাড়ছে, সুতরাং এসডিজি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হবে না।
ড. শামসুল আলম বলেন, এসডিজি বিষয়ে সারা বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন। পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের যেটি করতে হবে, সেটি হচ্ছে পিপিপি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়াতে হবে রাজস্ব হারও। তিনি জানান, আগামীতে শুধু আয় দিয়ে দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতিটি বাদ দেওয়া হবে। এখন দারিদ্র্য বহুমাত্রিকতা দিয়ে পরিমাপ করা হয়। যেমন একজন মানুষ কোথায় বাস করে, তার শিক্ষা, চিকিৎসা কী ধরনের প্রভৃতি প্রায় ১০টি সূচক দিয়ে অনেক দেশ দারিদ্র্য পরিমাপ করে। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..