সম্পাদকীয়

উন্নত মানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক

 

‘রংপুরের আট জেলায় নিম্নমানের বীজ’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি গতকাল সোমবার শেয়ার বিজে প্রকাশ হয়। সংবাদটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এ বিভাগের জেলাগুলোর বাজার নিম্নমানের বীজে সয়লাব। উন্নত মানের বীজের জন্য হাহাকার কৃষকের মাঝে। প্রচলিত রয়েছে, ভালো মানের বীজে ভালো ফসল। কিন্তু এ বিভাগের কৃষক নিম্নমানের বীজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। ফলে উৎপাদনও হচ্ছে না আশানুরূপ।

এখন আলু ও বোরো চাষের মৌসুম। রংপুর বিভাগে বোরো বীজের চাহিদা রয়েছে দুই লাখ টনের বেশি। বিএডিসি সরবরাহ করছে মাত্র পাঁচ হাজার টন। অর্থাৎ মোট বীজের তিন থেকে চার শতাংশ পূরণ করছে বিএডিসি। অন্যদিকে এ বিভাগের আট জেলা আলুচাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হওয়ায় বীজের চাহিদা বেশি। এ বীজ প্রয়োজন ৭৮ হাজার টন; কিন্তু বিএডিসি সরবরাহ করছে মাত্র ৮০০ টন। বাকি বীজ কৃষকরা সংগ্রহ করছেন বাজার থেকে। এতে নিম্নমানের বীজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। শুধু প্রতারিত নয়, নিম্নমানের বীজে চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেক কৃষক। তাই অনেকে নাকি আলু চাষ ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তা করছেন।

শুধু বোরো বা আলুবীজ নয়, অন্যান্য ফসলেরও উন্নত মানের বীজের সংকট রয়েছে। দেশ এখন বেশকিছু খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অন্য দেশের চেয়ে ভালো করছে আমাদের কৃষক। বিশেষ করে, চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে দেশ। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কৃষকরা নতুন নতুন প্রযুক্তি সহজেই গ্রহণ করছেন এবং তা ব্যবহারে সফলতাও পাচ্ছেন। রংপুর বিভাগ বোরো ও আলুচাষের উপযোগী হওয়ায় উৎপাদনও ভালো হয়। কিন্তু ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা যায় অনেক জায়গায়। প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। সরকার কৃষককে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিলেও মজুরি বাড়ার ক্ষেত্রে কোনো কিছু করার থাকে না। এর বেশ কিছু কারণও রয়েছে। অনেক শ্রমিক তাদের পেশা পরিবর্তন করে রাজধানী বা অন্য কোনো শহরে কাজ নেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহ করতে পারছে না। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু কিছু ব্যবসায়ী যে নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করছে, তা প্রতিরোধেও যথাযথ ভূমিকা রাখছে না কর্তৃপক্ষ। সরকার যেসব শস্যের বীজ পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে পারছে না, বেসরকারি খাতে তা দ্রুত আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক। এ খাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন এটাই কাম্য।

সর্বশেষ..