দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে শ্রম আইন সংস্কার জরুরি

সিপিডির সংলাপে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) পর্যায় থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে। তবে এ উত্তরণ মসৃণ ও ধারাবাহিক রাখতে শ্রম আইন ও অধিকার বিষয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শ্রমমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। গতকাল বুধবার সিপিডি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে যে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা পায়, তা সংকুচিত হবে। বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি+ সুবিধার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত হতে পারলে উত্তরণ-পরবর্তীকালে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক দেয়া থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ২৭টি মানবাধিকার ও শ্রমমান-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে ১৫টি আইএলওর শ্রমমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও প্রায় আট বছর ধরে শোভন কাজ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

‘বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইবিএ এবং জিএসপি+এর সম্ভাবনা: শ্রম আইন ও অধিকার-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শীর্ষক ওই ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংলাপে সূচনা বক্তব্যে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের জিএসপি+ সুবিধা পেতে প্রাসঙ্গিক মানদণ্ডগুলোর পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত ত্রুটি পর্যালোচনা এবং শ্রমের মান-সম্পর্কিত জিএসপি+এর সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার বিষয়ে যৌথভাবে সিপিডি ও নেটওয়ার্কস ম্যাটার এক গবেষণা পরিচালনা করেছে।

মূল প্রবন্ধে সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা একটি বাণিজ্য কাঠামো প্রদান করে, যা পেতে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের সুরক্ষা এবং প্রচারের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে হয়। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি+ সুবিধা পেতে শ্রম আইন নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শিশুশ্রম, ট্রেড ইউনিয়ন আইন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিসহ শ্রম আইন ও অধিকারের সংস্কারের উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে শ্রমিকবান্ধব একটি দেশ হিসেবে পরিচিত করার প্রয়োজন রয়েছে, যা শুধু জিএসপি+ সুবিধা পেতে নয়, বরং শ্রমিকদের সামগ্রিক উন্নয়নে সাহায্য করবে।

আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন এবং শ্রম আইন ও অধিকার বিষয়ে সংলাপ চলমান রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন মনে করেন, দেশের উন্নতি ও শ্রমিকের উন্নয়নের স্বার্থে শ্রম আইন প্রয়োগ করা উচিত, শুধু বাইরের চাপে নয়।

আইন সংস্কার দেশীয় প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে করার পরামর্শ দেন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি আরশাদ জামাল দীপু।

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম মনে করেন, গার্মেন্টসহ অন্যান্য শিল্পে বৈশ্বিক সংযুক্তি থাকায় আইন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলেই তৈরি করতে হবে।

বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ক্রেতাদের আরও দায়িত্ববান ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক পর্যায়ের শ্রমিক আইন মানতে ক্রেতাদের বৈশ্বিক পর্যায়ের দাম নিশ্চিত করতে হবে, যা বাংলাদেশের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিপিডি ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। কাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়ার দরকার আছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..