সম্পাদকীয়

উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে উদ্যোগ নিন

দেশের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিমাপ করা হয় ওই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ কতটা ব্যয় হলো সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যয়ের চিত্র রীতিমতো হতাশাজনক। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ১০টি মন্ত্রণালয় এডিপি বরাদ্দের ১০ শতাংশ অর্থও ব্যয় করতে পারেনি বলে গতকাল সহায়ক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও তা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করতে না পারা অদক্ষতার পরিচায়ক বলে মনে করি। এমন পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী ভূমিকা জরুরি।

চলতি অর্থবছর এডিপির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ দেশ স্বাধীনের পর প্রথম বছরে এর আকার ছিল মাত্র ৫০১ কোটি টাকা। দেশের মানুষের হাত ধরে এ বিশাল অঙ্কের এডিপিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে এডিপির গুণগত বাস্তবায়ন নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়। এসবের মধ্যেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এডিপির আকার বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা। এমনকি দক্ষতার দিক দিয়েও আমরা পিছিয়ে আছি বলেই বিশ্বাস। তাহলে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে না। যদিও ব্যয় বেশি হওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মচারীরা নানা যুক্তি উপস্থাপন করে থাকেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ভূমির প্রাকৃতিক কারণেই এখানে অবকাঠামো নির্মাণ অনেক চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশের মাটি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য খুব বেশি উপযোগী নয় বলেও তারা যুক্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিদেশে সমুদ্রের মাঝে সেতুসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে। সেসব অবকাঠামোর চেয়েও আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি; যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মূলত দক্ষতার অভাব এর পেছনে দায়ী বলে মনে করি। অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ানোর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে কি না তাও খতিয়ে দেখা উচিত। একইভাবে বরাদ্দ পাওয়ার পরও তা সঠিকভাবে ব্যয় করতে না পারাও অদক্ষতার নামান্তর বলে মনে করি। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সরকার আরও দায়িত্বশীল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..