মত-বিশ্লেষণ

উন্নয়নের নবদিগন্ত ব্লু ইকোনমি

হাসান আরিফ: সাগরের জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগানোই হচ্ছে সমুদ্রসম্পদনির্ভর অর্থনীতি বা ব্ল– ইকোনমি। কেবল সমুদ্রের নিচের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নয়, সমুদ্রনির্ভর যে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই ব্ল– ইকোনমির আওতায় পড়ে। ব্ল– ইকোনমির অন্যতম অনুষঙ্গ মৎস্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ আহরণ। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল এ ধরনের সম্পদে ভরপুর। বঙ্গোপসাগরের খনিজ সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিশাল এক আশীর্বাদ। এ কারণে ব্ল– ইকোনমির পরিধি সমুদ্রের মতোই বিশাল। আগামী প্রজন্ম তাদের চাহিদা মেটাতে তাকিয়ে আছে সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত সম্পদের দিকে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোও এই অর্থনীতিতেই ব্যাপক বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও তার বিশাল সমুদ্রসম্পদের ওপর ভর করে দেশের আর্থিক উন্নয়ন করতে যাচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরের বহুমাত্রিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র তিন বছরের মধ্যেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট ১৯৭৪’ প্রণয়ন করে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা ছিল সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সাফল্যের সুবর্ণ ফসল মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধান। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিকেল মাইলের মধ্যে সমুদয় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও তার বাইরে মহাদেশীয় বেষ্টনী এবং একইভাবে ভারতের সঙ্গে ৩৫৪ নটিকেল মাইল পর্যন্ত মহাদেশীয় বেষ্টনীর মধ্যে সব ধরনের সম্পদের ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বমোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল লাভ করেছে, যা মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৮০ দশমিক ৫১ শতাংশ।
মূলত বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে এই ব্ল– ইকোনমির বদৌলতেই। ফলে ধারণা করা যেতে পারে, সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে ব্ল– ওশান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতি। এজন্য সাগরের সম্পদ আহরণে নেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মপন্থা। এরই মধ্যে সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। অন্যদিকে উপকূলীয় অন্যান্য দেশের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে কার্যকর পরিকল্পনা। তাই মেরিটাইম বা সাগরসংক্রান্ত সম্পদ ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নতুন অর্থনৈতিক দুয়ার উšে§াচন করার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
সমুদ্রজয়ের পর বাংলাদেশের অফশোর ব্লক ম্যাপ পুনর্বিন্যাস করে সমুদ্রাঞ্চলকে ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অগভীর অংশে ব্লক ১১টি আর গভীর সমুদ্রে ব্লক ১৫টি। বর্তমানে অগভীর সমুদ্রের তিনটি ও গভীর সমুদ্রের একটি ব্লকে মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি একক ও যৌথভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত আছে, যা থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০১২’-এর আওতায় ২০১৪ সালের ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি সান্তোস-ক্রিস এনার্জির সঙ্গে বাপেক্সের অফশোর ব্লক শ্যালো সি (এসএস)-১-এর একটি প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) হয়। ব্লকটিতে ২০১৫ সালে তিন হাজার ২২০ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন হয়। এ ব্লকে আট-দশটি সম্ভাবনাময় লিড/প্রসপেক্ট শনাক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের মে মাসে এ ব্লকে ৩০৫ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে ইন্টারপ্রিটেশন চলছে। নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ২০১৯ সাল নাগাদ ব্লক এসএস-১১-তে একটি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের (ওএনজিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের (ওআইএল) সঙ্গে বাপেক্সের এসএস-০৪ এবং এসএস-০৯-এর জন্য দুটি পিএসসি সই হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তারা পাঁচ হাজার ৫৫২ লাইন কিলোমিটার টুডি মেরিন ও ওশান বটম কেব্ল (ওবিসি) সিসমিক জরিপ সম্পন্ন করেছে। এখানেও তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রক্রিয়া রয়েছে। গভীর সমুদ্র ব্লক ডিপ সি (ডিএস)-১২-এর জন্য পোসকো দাইয়ু করপোরেশনের সঙ্গে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ একটি পিএসসি সই হয়। এ চুক্তির আওতায় দাইয়ু এ ব্লকে তিন হাজার ৫৬০ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন করেছে। এ ব্লকে পাঁচটি বেশ সম্ভাবনাময় লিড/প্রসপেক্ট শনাক্ত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে শুধু মাছই রয়েছে প্রায় ৫০০ প্রজাতির। এছাড়া শামুক, ঝিনুক, শ্যালফিস, কাঁকড়া, অক্টোপাস, হাঙ্গরসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী, যেগুলো বিভিন্ন দেশে অর্থকরী প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাণিসম্পদ ছাড়াও ১৩টি জায়গায় আছে মূল্যবান বালু, ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম। এগুলোতে মিশে আছে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমেনাইট, জিরকন, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইট। এসব সম্পদ অতি মূল্যবান। তাছাড়া সিমেন্ট উৎপাদনের উপযোগী প্রচুর ক্লে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে।
ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে বিশ্বে স্থলভাগের সম্পদের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। তাই নতুন সম্পদের খোঁজে রয়েছে সারা বিশ্ব। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে মাছ ধরে শুধু রফতানি করেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত টুনা মাছ সারা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এই মাছটি দেশের আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলোতে আমদানি করা হয়ে থাকে। এই মাছ সঠিকভাবে আহরণ করতে পারলে নিজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রফতানি করাও সম্ভব। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ থেকে খাবার, মাছের তেল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, সস, চিটোসান ইত্যাদি তৈরি করা সম্ভব, যার ফলে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেতে পারে। এসডিজি’র ১৪ নম্বর ধারায় টেকসই উন্নয়নের জন্য সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। আর তাই ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি পূরণের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণের পাশাপাশি সমুদ্রের তীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রের মাধ্যমেও অর্থনৈতিক বিপ্লবের কথা ভাবছে বাংলাদেশ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রতিবছর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গড়ে এক হাজার হেক্টর করে ভূখণ্ড বাড়ছে। ব্ল– ইকোনমি রূপরেখা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সমুদ্রে ভূখণ্ড আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃত্রিমভাবে বাঁধ তৈরি করে পলিমাটি জমাট/চর জাগানোর মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে মালদ্বীপের মতো দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলাও সম্ভব। এতে দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিকতা পাবে। ব্ল– ইকোনমি সেলের মাধ্যমে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে আমরা যে জায়গার অধিকার পেয়েছি, সেখানে বিপুল পরিমাণ সমুদ্রসম্পদ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণের জন্য আমাদের সে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সমুদ্রসম্পদ বা ব্ল– ইকোনমি বিষয়ে সেল গঠনের মাধ্যমে আমরা অনেক এগিয়েছি।
সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে ১৭টি মন্ত্রণালয় ও ১০টি অধিদফতরের মধ্যে কাজের সমন্বয়সাধন করা হচ্ছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরগুলোকে কাজের পরিধি ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিভিন্ন ক্যাটেগরির কয়েকটা জাহাজ কেনার পরিকল্পনা আছে। একটা হচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মাধ্যমে। স্থলভাগের ভূগর্ভস্থ সম্পদগুলোর আহরণের কাজ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর করে থাকে। আর গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স করে থাকে। তবে এ কাজগুলো করার জন্য এতদিন আমাদের বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আরেকটি জাহাজ কিনবে সমুদ্রের ভূতাত্ত্বিক বিষয় অনুসন্ধানের জন্য। এটার মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে খনিজ সম্পদ আদৌ আছে কি নেই, সেটা জানা যাবে। এছাড়া পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স আরেকটি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেটাকে বলা হয় মাল্টি রোল ভ্যাসেল। এ জাহাজ দিয়ে বিভিন্নমুখী গবেষণা করা যাবে। মাল্টি রোলের মধ্যে আছে, টুডি ও থ্রিডি সিসমিক জরিপ করার যন্ত্র ও বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণাগার। এ জাহাজে একাধিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
২০১৮ সালের মধ্যভাগে জাতিসংঘের পতাকাবাহী নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (আইএমআর) কর্তৃক পরিচালিত অত্যাধুনিক একটি গবেষণা জাহাজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় অ্যাকুয়াস্টিক সার্ভে পরিচালনা করে। ওই জাহাজটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৎস্য ও সম্পদ এবং ইকোসিস্টেমের ওপর ১৫ দিনের জরিপ করে। বিশেষায়িত এ জাহাজটি সমুদ্রের উপরিস্তরের মাছের মজুদ, ইকোসিস্টেম, পানির গুণাগুণ, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের দূষণ প্রভৃতি বহুমুখী বিষয়ে জরিপ করে থাকে। সমুদ্রের ১০ মিটার থেকে দুই হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত জরিপ করেছিল জাহাজটি, যা আমাদের ব্ল– ইকোনমিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় নতুন দিগন্ত উম্মোচন করে।
২০১৮ সালের মধ্যভাগে জাতিসংঘের পতাকাবাহী নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (আইএমআর) পরিচালিত বিশ্বের অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় অ্যাকুয়াস্টিক সার্ভে পরিচালনার জন্য কাজ করে। জাহাজটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৎস্য ও সম্পদ এবং ইকোসিস্টেমের ওপর ১৫ দিনের জরিপ করে। বিশেষায়িত জাহাজটি সমুদ্রের উপরিস্তরের মাছের মজুদ, ইকোসিস্টেম, পানির গুণাগুণ, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের দূষণ প্রভৃতি বহুমুখী বিষয়ে জরিপ চালায়। সমুদ্রের ১০ মিটার থেকে দুই হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত জরিপ করেছিল জাহাজটি, যা আমাদের ব্ল– ইকোনমির ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উম্মোচন করে।
সাগরের এ সম্পদ আহরণে দেশকে সমৃদ্ধ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ২০১৬ সালের আগস্টে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ চুক্তির মাধ্যমে ইইউর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ চুক্তির আওতায় দুই বছর সমুদ্র অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ গবেষণা করবে সমুদ্র গবেষণায় দক্ষ ইইউ। এরপর এ সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশমালা তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও সমুদ্রসীমার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারত ও চীনের সঙ্গে পৃথকভাবেও কাজ করবে সরকার।
বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে জাপানেরও। এছাড়া হাতে নেওয়া হয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ। এর বাইরে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নীল সমুদ্র অর্থনীতিতে বলীয়ান হবে দেশ। এরই মধ্যে গৃহীত ব্ল– ইকোনমি বা সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করার পরিকল্পনা অন্যতম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে।

পিআইডি প্রবন্ধ

সর্বশেষ..