প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উন্নয়নের স্বার্থে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ান

 

গবেষণা খাতে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। দেশে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে গবেষণা হয় না বলে উদ্ভাবনও কম। আমাদের হয় বিদেশি উদ্ভাবন কিনে আনতে হয়, নয়তো অনুসরণ করতে হয় তাদের প্রযুক্তি। অথচ আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি, আর্থসামাজিক অবস্থা, চাহিদা প্রভৃতি অনুসারে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হলে বাইরের দেশগুলোর উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অন্ধ অনুসরণ করতে হতো না। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হতো। গত মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে দেশের বিভিন্ন খাতে গবেষণা বাড়ানোর কথা বলেছেন বক্তারা। সঙ্গত কারণেই তাদের সঙ্গে আমরা একমত।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার সুযোগ অতি সীমিত। বেসরকারি পর্যায়ে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোয় কিছু গবেষণা হলেও সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্প-বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা তেমন হয় না। এ খাতে ফান্ডের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি ঘাটতি রয়েছে গবেষকের। দুর্ভাগ্যজনক হলো, দেশে যে মেধাবী গবেষক তৈরি হয়, তাদের আমরা ধরে রাখতে পারি না; সঠিক মূল্যায়নে ব্যর্থ হই। ফলে তারা উন্নত দেশগুলোয় পাড়ি জমান। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অনেকেই বিভিন্ন দেশে গবেষণায় বড় অবদান রাখতে পেরেছেন। তাদের দেশে রেখে যথাযথ পরিবেশ দিতে পারলে আমরা অনেক এগিয়ে যেতে পারতাম। বস্তুত গবেষণার জন্য আমরা গবেষকদের যথেষ্ট ফান্ড দিতে চাই না। কাক্সিক্ষত পর্যায়ের জীবনমান নিশ্চিত করতে না পারলে গবেষকরা বিদেশে চলে যাবেনÑসেটা স্বাভাবিক। তবে নিজের দেশ ছেড়ে সহজে কেউ যেতে চান না। সরকারি-বেসরকারিভাবে গবেষণা খাতে যথেষ্ট বিনিয়োগ হলে দেশের গবেষক দেশেই থাকতেন এবং আমরাও নতুন জ্ঞান লাভ করতাম, যা কাজে লাগতো আমাদেরই। গবেষণা খাতে বিনিয়োগকে অপচয় ভাবা ঠিক নয়। আপাতদৃষ্টিতে অপচয় মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল কিন্তু যথেষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে গবেষণা খাতে। এর সুফলও ভোগ করছে তারা। এখন চীন, ভারতসহ এশিয়ার মধ্য আয়ের দেশগুলোও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। শিল্প, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে মানসম্পন্ন গবেষণার জন্য বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি উপযুক্ত অবকাঠামো দেশে গড়ে তুলতে হবে। কৃষি খাতে গবেষণায় আমাদের রয়েছে বড় সাফল্য। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার মতো ফল-ফসলের জাত আবিষ্কার করেছেন আমাদের গবেষকরা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষিপণ্য উৎপাদন যে কয়েকগুণ বেড়েছেÑসেটি কিন্তু সম্ভব হয়েছে গবেষণার কারণে। তবে খাদ্য বাজারজাতকরণে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এখনও রয়েছে। এতে উৎপাদন থেকে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত কিছু অপচয় হয়। গবেষণার মাধ্যমে এ সমস্যারও সমধান সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গবেষণা খাতে যৌক্তিক পর্যায়ে ফান্ড বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগে সরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন গবেষণা হলে দেশের মেধা ও আবিষ্কার দেশেই থাকবে; তুলনামূলক কম মূল্যে পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা বাজারজাতের মাধ্যমে লাভবান হবে বিনিয়োগকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।